বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানির পরিকল্পনা আফগানিস্তানের

ওষুধ শিল্পে পাকিস্তানের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে আফগানিস্তান। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি। তালেবান সরকারের দাবি, এতে ওষুধের মান উন্নত হবে এবং দেশি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তবে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। গত নভেম্বরে তালেবান কর্র্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, ওষুধ আমদানিতে আমরা দশকের পর দশক পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল। এ নির্ভরশীলতা শিগগিরই বন্ধ করা হবে। প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর তালেবান সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে হঠাৎ এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ওষুধ বাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান এতদিন তার মোট ওষুধ চাহিদার বড় একটি অংশ পাকিস্তান থেকে আমদানি করত। কিছু ক্ষেত্রে এ নির্ভরতা অর্ধেকেরও বেশি ছিল। সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে আমদানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ ও বিকল্প উৎস খোঁজার নির্দেশনার পর বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। কাবুলের বিভিন্ন ফার্মেসি মালিক এএফপিকে জানিয়েছেন কিছু জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ কমেছে, আবার কিছু ওষুধের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে। আমদানিকারকদের দাবি, পাকিস্তান সীমান্তপথে সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এখন ইরান সীমান্ত দিয়ে পণ্য আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটিই বেড়েছে। আফগানিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাইয়ুম নাসির বলেন, পাকিস্তানের ‘বিকল্প ও বৈধ’ উৎস খুঁজে নিতে আমদানিকারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান এএফপিকে বলেন, পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ওষুধ নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল অধিকাংশ পণ্য নকল ও ভেজাল। এএফপি জানায়, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এবং কম দামে মানসম্মত ওষুধ সক্ষমতা রয়েছে। তাই কাবুল বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও ইরানের সঙ্গে আমদানি-সংক্রান্ত আলোচনাও শুরু হয়েছে। শরাফত জামান বলেন বাজার ঢেলে সাজানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করেন। তিনি আরও জানান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, চীন ও বেলারুশ থেকে ওষুধ আমদানির লক্ষ্যে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ চেইন পুনর্গঠনে সময় লাগবে। নতুন দেশ থেকে আমদানি, মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও শুল্ক প্রক্রিয়া সব মিলিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থিতিশীলতা আসবে না। ফলে স্বল্পমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধি ও ঘাটতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে আফগান সরকার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর কথাও বলছে। কিন্তু ওষুধশিল্পে কাঁচামাল আমদানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সংকটের কারণে দ্রুত স্বনির্ভর হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।