গণঅভ্যুত্থানকে উপেক্ষা করেছে বিএনপি, মন্তব্য জামায়াতের

বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এতে জনআকাক্সক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি। সংস্কারের বিপরীতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, খলিলুর রহমান মন্ত্রী হওয়াই প্রমাণ করে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয় ধীরে ধীরে জাতির সামনে উন্মোচিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ১১ দলীয় জোট থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এ নিয়ে সাংবাদিকরা জামায়াত আমিরের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল গতকাল গভীর রাতে। যেটা আমাদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়কও ছিল। তারপর আমাদের নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেশবাসীর প্রতি সম্মান রেখে আমরা এসেছিলাম শপথ নিতে। ইতিপূর্বে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ্য করেছি, একই দিনে একই সময়ে শপথ অনুষ্ঠান হতো। এবারই বোধ হয় আপনারা তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করেছেন। সরকারি দল আমাদের আগে শপথ নিয়েছে।’

তিনি বলেন, চিঠিতে বলা হয়েছিল, সংসদ সদস্য হিসেবে তারা প্রথমে শপথ নেবেন। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আরেকটা শপথ হবে। আমরা হলে প্রবেশ করার পর সংসদ সচিব আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘স্যার, সকালবেলা সরকারি দলের সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আপনারা কী করবেন?’ আমরা তখন বললাম যে আমরা দুটিরই শপথ নিতে এখানে এসেছি।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রী করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা তো সরকারি দল তাদের চয়েজের মানুষ নিয়েছে। তবে আমরা এটাকে ফেয়ার মনে করি না।’

দুটি শপথ নেওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘ছাব্বিশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল না। এই ছাব্বিশ সালের নির্বাচনটা হয়েছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের কারণে। জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা এবং গণভোটের রায় এই দুটির প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমরা গণ্য করেছি। আমরা গণভোটের রায়কে সম্মান করেছি, জুলাইয়ের আকাক্সক্ষাকে সম্মান করেছি। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদের সম্মান করেছি এবং আমরা একমত হয়েছি যে এই শপথ নেওয়া আমাদের কর্তব্য।’

এ সময় সরকারি প্লট ও ট্যাক্সবিহীন গাড়ি না নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এই সিদ্ধান্তে আমরা অবিচল এবং অটল। আমরা এই সুবিধা নেব না। এ ছাড়া বাকি কতটুকু না নিয়ে পারা যায়, সেটাও আমরা দেখব।’

দেশ এবং জনগণের ভালোর জন্য সরকার কোনো উদ্যোগ নিলে জামায়াতসহ ১১ দলের সমর্থন থাকবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কিন্তু যদি আমরা দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে কিছু দেখি, তাহলে আমরা জনগণের হয়ে জনস্বার্থবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত দলগুলোকে ভোট দেওয়া বা সমর্থনের কারণে নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবার ওপর ব্যাপক হামলা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকারি দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে ১১ দলীয় ঐক্য। এখনই এসব হামলা বন্ধ হওয়া উচিত। সরকারকে এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

‘খলিলুর রহমান মন্ত্রী হওয়াই প্রমাণ করে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে’ : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘খলিলুর রহমান মন্ত্রী হওয়াই প্রমাণ করে নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। সরকারি দল হিসেবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিল না, এটা গণভোটের যে গণরায় এসেছে “হ্যাঁ” এর পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে, সেই রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। সরকার গঠনের প্রথম দিনই যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল, তাদের কাছ থেকে এই দেশ, জাতি বা আমরা কী আশা করব, সেটা সবার মনেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এবং এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়, এটা আইনি সংকট এবং জটিলতা তৈরি করেছে।’

তিনি বলেন, জুলাই সনদে তারা (বিএনপি) স্বাক্ষর করেছে। এই আদেশ মেনে নিয়েছে। আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে, সেটিও মেনে নিয়েছে। এ জন্য যে ব্যাখ্যা তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, সেটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণভোট সংবিধানে নেই, এমনটি বলা হচ্ছে। গণভোট সংবিধানে ছিল না। তবে গণভোটের বৈধতা দিয়েছে জুলাই সনদ। সেটি সবাই মেনে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিয়েছে।