নতুন সরকারকে ঘিরে কুড়িগ্রামের স্বপ্ন

কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের প্রত্যাশা এবার নতুন সরকারকে ঘিরে অনেক বেশি। বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে আসা এ জনপদের বাসিন্দারা চান-এবার হোক দৃশ্যমান পরিবর্তন।

জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ একাধিক নদীর ভাঙনে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও টেকসই নদী শাসন কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সাময়িক নয়-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমেই কেবল নদীভাঙন রোধ সম্ভব।

অন্যদিকে কর্মসংস্থানের অভাব কুড়িগ্রামের বড় সংকট। শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং যুবকদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চালুর দাবি উঠেছে জোরালোভাবে। তরুণ সমাজ চায়-নিজ এলাকায় থেকেই কাজের সুযোগ।

সাধারণ মানুষের আশা, নতুন সরকার প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। নদীভাঙন রোধ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে বদলে যাবে কুড়িগ্রামের চিত্র-ফিরে আসবে স্বস্তি, জাগবে নতুন স্বপ্ন। 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের আবু সাঈদ বলেন, কুড়িগ্রামে সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্ম নাই, আমরা নতুন সরকারের কাছে কর্ম চাই, আর আমরা বউ বাচ্চা রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম যেতে চাই না। সবাই মিলে আমরা কুড়িগ্রামে কাজ করে খেতে চাই।

একই ইউনিয়নের যুবক আতাউর রহমান বলেন, লেখাপড়া শেষ করে বসে আছি। কোন চাকরি পাচ্ছি না। এখানে যদি কোন কলকারখানা থাকতো সেখানে চাকরি করা যেতো। সেটা কুড়িগ্রামে নাই। ঢাকা গাজীপুর গিয়ে কোন কোম্পানিতে চাকরি করতে হয়।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের তারা মিয়া বলেন, নদী ভাঙনে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। প্রতিবছর নদীর সাথে যুদ্ধ করে বাঁচি আমরা। আমরা নতুন সরকারের কাছে নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধান চাই।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, অবহেলিত কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়নে নদীভাঙন রোধ, চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন এবং বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় সুষম বণ্টন নিশ্চিত হলেই কুড়িগ্রামের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।