আল আকসা মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করল ইসরায়েল

জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ একরিমা সাবরি সম্প্রতি অভিযোগ করেন, রমজান মাসে মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা করছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এবার সেই অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। দখলদার ইসরায়েলি পুলিশ আল-আকসা মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে মসজিদের ভেতর থেকেই ইমামকে আটক করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পুরোনো শহর এলাকায়। স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)  সন্ধ্যায়, আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকে ইমাম শাইখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ইসরায়েলি পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। পবিত্র মাস মাহে রমজান শুরুর ঠিক আগে ইসরায়েলের এমন আচরণে  মুসলিমদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। 

ওয়াফার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আল-আকসাকে ঘিরে সম্প্রতি ইসরায়েলি বিধিনিষেধ আরও জোরদার করা হয়েছে। ইমাম, খতিব ও মুসল্লিদের ওপর কড়াকড়ির পাশাপাশি প্রবেশে আরোপ করা হয়েছে সীমাবদ্ধতা। একইসঙ্গে পুলিশের নিরাপত্তায় বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশও বেড়েছে।

এদিকে  ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলদারত্ব সম্প্রসারণ এবং ভূমি দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘভুক্ত ৮৫টি সদস্য রাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর এই রাষ্ট্রসমূহ এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষে একটি যৌথ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে ইসরাইলের একতরফা সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ইসরাইল ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের 'এরিয়া সি' অঞ্চলে ভূমি নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অঞ্চলটি পশ্চিম তীরের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের জনতাত্ত্বিক কাঠামো ও মর্যাদা পরিবর্তনের অপচেষ্টা, যা শান্তি প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা। এই নিন্দা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, পাকিস্তান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির মতো সংস্থাও এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই পরিকল্পনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরাইলের এই ভূমি নিবন্ধন পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করবে এবং পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। তিনি ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) দেওয়া সেই ঐতিহাসিক রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের উপস্থিতি এবং বসতি স্থাপনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে পশ্চিম তীরের প্রায় ৩০০টি অবৈধ বসতিতে ৪ লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।

অন্যদিকে পশ্চিম তীরের জর্ডান উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ফেলে রাখা গোলাবারুদ বিস্ফোরণে ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও ১২ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, ইসরাইলের এই নতুন দখলদারত্বের পরিকল্পনা গাজা যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত ‘কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান’ বা ব্যাপকভিত্তিক শান্তি পরিকল্পনাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।