ফিলিস্তিনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বড় অংশকে ইসরায়েলের ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে দাবি করার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের ৮০টিরও বেশি সদস্য দেশ। মঙ্গলবার ৮৫টি সদস্য রাষ্ট্র ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে। এদিকে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরের ভেতর থেকে মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলি আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতর থেকে ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তারা শেখ আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেন। তবে তাকে গ্রেপ্তার করার কারণ কিংবা তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত মনসুর বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ উপস্থিতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের আমরা কঠোর নিন্দা জানাই। এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের দায়বদ্ধতার পরিপন্থী এবং অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমের জনসংখ্যা, চরিত্র বা মর্যাদা বদলানোর যেকোনো চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ নিন্দা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, পাকিস্তান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির মতো সংস্থাও এ অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
সম্প্রতি ইসরাইল ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে ভূমি নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, এ অঞ্চলটি পশ্চিম তীরের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের জনতাত্ত্বিক কাঠামো ও মর্যাদা পরিবর্তনের অপচেষ্টা, যা শান্তি প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা। এ বিষয়ে আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে পারে এবং এলাকায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে পারে। তিনি ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলের দখলকে অবৈধ বলা হয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ও প্রশাসন তদারকের জন্য ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্যপদের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে মেক্সিকো। দেশটির সরকার মনে করে, এ পরিষদে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই স্বল্প।