রোজায় পানি পানের পরিকল্পনা

ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পানির পরিকল্পনা থাকায় রোজার সময় পানিশূন্যতা এড়ানো যায়। অনেকেই ইফতারের সময় তীব্র তৃষ্ণার কারণে একসঙ্গে অনেক পানি পান করে ফেলেন, আবার সাহরিতে ঘুমের তাড়ায় খুব কম পানি পান করেন। এই পদ্ধতিতে শরীর আসলে ঠিকভাবে হাইড্রেটেড হতে পারে না, কারণ একবারে বেশি পানি পান করলে বড় একটি অংশ প্রস্রাবের মাধ্যমে দ্রুত বের হয়ে যায়।

সঠিক পদ্ধতি হলো পানি ধীরে ধীরে এবং ভাগ করে পান করা। ইফতারের সময় প্রথমে ১-২ গ্লাস পানি পান করলে শরীর প্রাথমিক পানির চাহিদা পূরণ হয়। এরপর ইফতার ও নামাজের ফাঁকে বা রাতের খাবারের আগে-পরে অল্প অল্প করে কয়েকবার পানি পান করা উচিত, যাতে শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী পানি শোষণ করতে পারে। সাহরির সময় আবার ২-৩ গ্লাস পানি পান করলে দীর্ঘ রোজার জন্য শরীর ভালোভাবে প্রস্তুত হয়। এভাবে ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত মোট ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি ভাগ করে পান করলে শরীর সারা দিন পানিশূন্যতা থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে।

একসঙ্গে বেশি পানি না খেয়ে ভাগ করে পানি পান করা রোজার সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ইফতার বা সাহরিতে একবারে অনেক পানি খেয়ে নেন, মনে করেন এতে সারা দিনের পানির ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে শরীর একসঙ্গে এত পানি শোষণ করতে পারে না। অতিরিক্ত পানি কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং শরীর সেটাকে প্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার করার আগেই প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। ফলে শরীরের ভেতরে পানি জমে থাকে না এবং হাইড্রেশন ঠিকভাবে বজায় থাকে না।

এর চেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত সময় জুড়ে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে পানি পান করা। এতে শরীর ধীরে ধীরে পানি শোষণ করতে পারে, কোষগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় শরীর হাইড্রেটেড থাকে। এই অভ্যাস রোজার সময় দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে অনেক বেশি সহায়ক।