সিন্ডিকেট ভাঙা সরকারের ‘অ্যাসিড টেস্ট’

রমজান এলেই সিন্ডিকেট করে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাড়ে খাদ্যে ভেজাল। নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও সিন্ডিকেট ভাঙা সরকারের জন্য ‘অ্যাসিড টেস্ট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট এএইচএম সফিকুজ্জামান।

‘পবিত্র রমজানে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মোকাবিলা নাগরিক দাবি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বিসেফ ফাউন্ডেশন, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও শিসউক। সংবাদ সম্মেলন ১৫টি দাবি তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নতুন সরকারকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। মূল্যবৃদ্ধি ও ভেজাল খাদ্য সরবরাহের সঙ্গে জড়িতের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ক্যাবের প্রেসিডেন্ট সফিকুজ্জামান বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও সিন্ডিকেট ভাঙা সরকারের জন্য ‘অ্যাসিড টেস্ট’। এ কাজ সরকারকে কঠোরভাবে করতে হবে। ভেজাল খাদ্য ও মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নীতিনৈতিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের স্বার্থে কৃষিজমিতে ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, বিগত সময় সফিকুজ্জামান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময় বাজার তদারকিতে তিনি আলোচনায় এলেও নিত্যপণ্যের দাম ছিল সিন্ডিকেটের কবলে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার অনেকটা বাইরে। তবে বাজার পর্যবেক্ষণে তিনি ছিলেন আন্তরিক।

শিসউকের নির্বাহী পরিচালক শাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ বলেন, নতুন সরকারের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য স্বল্পমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা। বাজার সিন্ডিকেট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবেও উল্লেখ করে তিনি।

মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আতাউর রহমান মিটন বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিমান নিশ্চিত না হলে খাদ্য নিরাপদতার ঘোষণা অর্থহীন। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী, খাদ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় করতে হবে। গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে মাসব্যাপী জনসচেতনতা এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশাও বেশি। দেশের মানুষ মৌলিক অধিকার নিরাপদ খাদ্য সঠিক ও সহজে গ্রহণ করুক। রমজান থেকেই নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে ভালো কাজের সূচনা হোক। সেই সঙ্গে জনসচেতনতা ও বাজার তদারকি বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন তুলে ধরা ১৫ দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি বাজারে ‘নিরাপদ কৃষকের বাজার’ প্রতিষ্ঠা, খাদ্যপণ্যে মজুদ ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদক ও বিপণনকারীদের প্রণোদনা, নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী দায়বদ্ধতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা, অনিরাপদ পানি, বরফ ও অননুমোদিত রঙ-সংযোজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল, বাসি-পচা ও খোলা খাবার বিক্রি বন্ধ, কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি কার্যকর করা এবং বাজারভিত্তিক নাগরিক তদারকি কমিটি গঠন, ‘নিরাপদ খাদ্য’ সিল প্রবর্তন, ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার ও প্রমাণভিত্তিক শাস্তি, খাদ্য নিরাপদ গবেষণায় বিশেষ তহবিল, একক জানালাভিত্তিক ডিজিটাল খাদ্য ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং পোর্টাল চালু প্রমুখ।