মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া বা সম্ভাব্য সামরিক হামলার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গাজা পুনর্গঠন ও একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর তদারকিতে গঠিত ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস'-এর উদ্বোধনী বৈঠকে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে বলেন, 'আমরা হয় একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নতুবা তাদের জন্য পরিস্থিতি দুর্ভাগ্যজনক হবে।'
জানুয়ারিতে বিক্ষোভ দমনে ইরানের কঠোর অভিযানে হাজারো মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এদিকে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। মার্কিন রণতরী ইউএসস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এবং এটি গত মাসে সেখানে পৌঁছানো ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দেবে।
এ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘে ইরানের দূত সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ও স্থাপনাগুলোকে “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
জুনে ১২ দিনের এক সংঘাতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের পারমাণবিক কর্মী ও স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এদিকে জেনেভায় চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকের পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় একটি লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার সম্মতি জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বর্তমানে সেই প্রস্তাবের অপেক্ষায় আছেন, যদিও এটি কবে জমা দেওয়া হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।