কুবি হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে মারধর, আহত ৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট দখল ও বহিরাগত তোলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমানসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতেই হলে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ ও মারধরের ঘটনার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা।

আহতরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ষোড়শ ব্যাচের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের সপ্তদশ ব্যাচের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় ও  একই ব্যাচের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী কাব্য। কাব্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তারা সবাই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

অভিযুক্তরা হলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও অষ্টম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান, একই ব্যাচের সাইফুল, দ্বাদশ ব্যাচের তরিকুল ও অষ্টাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাত।

আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি আতিকুর রহমান হল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ৫০০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন এবং সেখানে ১৯তম আবর্তনের এক কর্মীকে তোলেন। একইভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে ছাত্রদল কর্মী সিফাতকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে অষ্টাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান এবং হলের জ্যেষ্ঠদের অবহিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান কয়েকজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী ও কর্মীকে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং তাদের বিভিন্ন সিটে থাকার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে মৌখিক বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্যসচিব মুস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান শিক্ষার্থী নিবিড়কে থাপ্পড় মারেন। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দিয়ে ও কাব্যের নাকে ঘুষি মেরে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

কাব্যের বন্ধু ও ছাত্রদল কর্মী হুসাইন বিন আলি বলেন, কাব্যের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। তাকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে আতিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সমাধান করা হবে।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। হল প্রশাসনের কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।