ট্রাম্পের শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পর ফেরত পাবে কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে জারি করা বিতর্কিত শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—আদায়কৃত প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল অংকের অর্থ কীভাবে ফেরত পাবে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো? সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এই রায় দিলেও অর্থ ফেরতের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা রোডম্যাপ বাতলে দেয়নি। ফলে ১ হাজারেরও বেশি মামলার পাহাড় জমে থাকা এই প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আদায়ের একটি নির্ধারিত ধাপ রয়েছে। কোনো পণ্য প্রবেশের সময় আমদানিকারক ‘কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন’ (সিবিপি) এজেন্সির কাছে সম্ভাব্য শুল্ক জমা দেন। আমদানির প্রায় ৩১৪ দিন পর পণ্যটির চূড়ান্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়, যাকে বলা হয় ‘লিকুইডেশন’। আদালতের রায়ের আগে আমদানিকারকরা এই লিকুইডেশন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার আবেদন জানালেও নিম্ন আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে এখন এই চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া নথিপত্রগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজ হবে না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানো এক ভিন্নমতাবলম্বী নোটে সতর্ক করে বলেছেন, এই অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্ভবত একটি ‘বিরাট হট্টগোল’ তৈরি করবে। প্রতিটি আমদানিকারককে সম্ভবত আলাদাভাবে ‘কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ মামলা করতে হবে। তবে গত ডিসেম্বরে একটি রায়ে আদালত জানিয়েছিল যে, তাদের পুরনো ফাইল পুনরায় খোলার এবং সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য আইন অনুযায়ী, আমদানিকারকরা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়ে মামলা করার জন্য দুই বছর সময় পাবেন।

অর্থ ফেরতের এই আইনি লড়াই বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য সহজ হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এটি দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কস্টকোর মতো বড় কোম্পানিগুলো আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখলেও, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে হাজার হাজার ডলার আইনি ফি দিয়ে মামলা করা কঠিন। অনেক ক্ষুদ্র আমদানিকারক আশঙ্কা করছেন যে, আদালতের খরচ মেটাতে গিয়ে তাদের পাওনা অর্থের চেয়ে খরচই বেশি হয়ে যাবে। ফলে অনেকেই হয়তো শেষ পর্যন্ত রিফান্ডের দাবি ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।

শুল্ক ফেরতের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় জটিলতা হলো- অর্থটি আসলে কে পাবে? অনেক সময় আমদানিকারক এবং পণ্যের মূল মালিক বা বিক্রেতা আলাদা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এই রিফান্ডের টাকা কার পকেটে যাবে, তা নিয়ে ‘ইমপোর্টার অব রেকর্ড’ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মধ্যে নতুন করে আইনি বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে যে, আমদানিকারকদের হাতে প্রকৃত অর্থ পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

এর আগেও, ১৯৮৬ সালে হারবার মেইনটেন্যান্স ট্যাক্স অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর প্রায় ১ লাখ দাবিদারের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া তদারকি করেছিল কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে উন্নত ডিজিটাল রেকর্ড থাকায় অর্থ ফেরতের পরিমাণ নির্ধারণ সহজ হতে পারে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দাবি তুলেছেন যেন কোনো প্রকার আইনি জটিলতা ছাড়াই ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নথিপত্র যাচাইয়ের কড়াকড়ি এই প্রক্রিয়াকে আরও ধীর করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স