‘দুইজন ক্রিকেটার কোমায় চলে গিয়েছিলেন’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট নিয়ে সদ্যবিদায়ী যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল চরম মিথ্যাচার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। আসিফ নজরুলের কথা শুনে দুজন ক্রিকেটার এক রকম কোমায় চলে গিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে ১৯ দিনের ব্যবধানে দুই রকম দাবি করেন আসিফ নজরুল। শুরুতে তিনি বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটি শুধু বাংলাদেশ সরকারের। তবে পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসিফ নজরুলের এমন অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল দেশের ক্রিকেট আঙিনায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেশের ক্রিকেটের সফল এই কোচ বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আসিফ নজরুলকে নিয়ে। সালাহউদ্দিন বলেন, “একজন ব্যক্তি, যিনি দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর শিক্ষক, এত বড় মিথ্যা বলতে পারেন, আমরা এটি মেনে নিতে পারি না। কীভাবে মেনে নেব? তিনি আগে এক কথা বললেন, পরে সম্পূর্ণ উল্টো কথা বললেন।”

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে শিক্ষক। সাধারণত শিক্ষকরা কম মিথ্যা বলেন। তিনি এত সরাসরি মিথ্যা বললেন, আমি কল্পনা করতে পারি না। ছেলে-পেলেদের সামনে আমি কীভাবে মুখ দেখাব? তিনি এমন উল্টো মোড় নিলেন।’

সালাহউদ্দিন প্রকাশ করেছেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ‘দুজন খেলোয়াড় কয়েক দিন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। একজন ছেলে যখন বিশ্বকাপে যায়, সে তার ২৭ বছরের স্বপ্ন নিয়ে যায়। আপনি সেই স্বপ্ন এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দেন। যদি এটি দেশের স্বার্থে হয়, তারা দেশকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা বললে, আপনি সরাসরি একজন খেলোয়াড়ের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছেন।’

তিনি যোগ করেন, ‘এই টুর্নামেন্টে তাদের আবার মাঠে ফিরিয়ে আনা আমার কোচিং জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। তারা আবার রান করেছেন। একজন খেলোয়াড় জীবনে বহু বছর ধরে একটি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে। অর্থ অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ছোট বিষয়। মূল বিষয় হলো সেই বিশ্বকাপ যা সে খেলতে চেয়েছে।’

সালাহউদ্দিন শেষ করেন, “দেশের জন্য আমি অনেক কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত এবং ছেলে-পেলেদেরও প্রস্তুতি আছে। কিন্তু আমি কি কারও মাথায় হাত দিয়ে বলেছি, ‘ছেলে, তুমি খেলতে পারছ না’? যদি সঠিকভাবে যোগাযোগ করা হতো, অনেক কিছু সহজে গ্রহণযোগ্য হতো।”