ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যে সারাদেশে পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি, দোয়া ও মোনাজাতে ১৯৫২ থেকে ২০২৪-এর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা।

১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন জাতির বীর সন্তানরা। একুশের প্রথম প্রহরে, রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই সারাদেশের সব শহীদ মিনারে ঢল নামে মানুষের। দিবসটিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

এদিকে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাত বারোটা বাজার এক মিনিট আগে শহীদ বেদীতে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনারে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানান ভাষা শহীদদের প্রতি। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিসভার সদস্যসহ এসময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও।

পরে দলীয় প্রধান হিসেবে নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। সবশেষে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ৫২-এর অকুতোভয় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিন বাহিনী প্রধান। পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের বেদীতে শ্রদ্ধা জানান তারা। এরপর একে একে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শনিবার সকালেও দেখা যায় হাজার হাজার মানুষ শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন। 

রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া ছাত্রদলের পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার প্রধান কলেজগুলো এবং জুলাই ঐক্য, প্রথম আলো বন্ধুসভা ও জুলাই মঞ্চের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।