পিরোজপুরে ৯২৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার  

ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও পিরোজপুরের ৯২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। ফলে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শহীদ মিনারে যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কলা গাছ দিয়েও শহিদ মিনার বানিয়ে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। 

সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানায়, এই জেলায় সাতটি উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৯৯০টি। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ২৭৫টি প্রতিষ্ঠানে, শহীদ মিনার নেই ৭১৫টিতে। 

এদিকে জেলায় মোট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫০৩টি। এসব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে ২৯০টি প্রতিষ্ঠানে, শহীদ মিনার নেই ২১৩টি প্রতিষ্ঠানে।

জেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ৪৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ৫৬৫টি প্রতিষ্ঠানে এবং শহীদ মিনার নেই ৯২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নতুন সরকারের কাছে তাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপনের দাবী জানান। শিক্ষার্থীরা বলে, আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার নেই। শহীদ দিবসের সময় অনেক পথ হেটে গিয়ে উপজেলার শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। আমরা চাই আমাদের স্কুলেই শহীদ মিনার হোক। তাহলে আমাদের পরিবারসহ সকলকে নিয়ে আমরা শহীদ দিবস উদযাপন করতে পারব। 

স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের দাবী জানিয়ে বলেন, শহীদ দিবস উদযাপন করতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উপজেলা শহীদ মিনারে শিশুদের নিয়ে যেতে কষ্ট হয়। এই দূর্গম এলাকায় ঠিক সময়ে গাড়িও পাওয়া যায় না, তাই পায়ে হেটে উপজেলার শহীদ মিনারে যেতে হয়। এতে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। আমাদের স্কুল চত্বরে শহীদ মিনার স্থাপন করা হলে শিশুরা ইতিহাসটা ভালোভাবে শিখতে পারবে এবং এলাকার সকল মানুষকে নিয়ে আমরা শহীদ দিবস উদযাপন করতে পারবো। 

পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, একটা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকা খুবই দু:খজনক। আমার বিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কোন শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। যে কারণে শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন ও ভাষা শহীদ সম্পর্কিত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্য শহীদ মিনার নির্মিত হবে।

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, এই জেলায় মোট ৯৯০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৫ টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে, বাকি ৭১৫টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপনের ব্যাপারে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অতি দ্রুতই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক শোভন দাস বলেন, পিরোজপুর জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মোট ৫০৩টি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে ২৯০টি প্রতিষ্ঠানে, শহীদ মিনার নেই ২১৩টি প্রতিষ্ঠানে। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই তাদেরকে আমরা অবহিত করেছি। আমরা চলতি বছরের মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শহীদ মিনার স্থাপনের চেষ্টা করতেছি। 

সচেতনমহল ও অভিভাবকদের দাবী, ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করা জরুরি।