নরসিংদীর শিবপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবু ছাঈদ মোগল (৭০) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষককে কুপিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের মোল্লাকান্দা গ্রামের মোগলবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত স্কুলশিক্ষক আবু ছাঈদ মোগল মোল্লাকান্দা গ্রামের জামাল উদ্দিন মোগলের ছেলে। তিনি শাষপুর কাজী মফিজ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানায়, মোল্লাকান্দা গ্রামের বাসিন্ধা আবু ছাঈদ মোগলের সঙ্গে প্রতিবেশী স্বপন মোগলের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে আবু ছাঈদ মোগলের মেয়ে রোকেয়া লিপি ওই জমিতে গেলে স্বপন মোগল বাধা দেন এবং তাকে মারধর করেন। তার চিৎকারে আবু ছাঈদ মোগল ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এ সময় উত্তেজিত স্বপন মোগল ও তার ছোট ভাই কিরণ মোগল দা দিয়ে কুপিয়ে সাঈদের দুই পায়ের রগ কেটে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত দুইজন পালিয়ে যায়। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় ছাঈদকে উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে অবস্থা অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়।
এদিকে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাঈদ মোগলের মারা যাওয়ার গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকার ক্ষুব্ধ লোকজন ও স্বজনেরা স্বপন ও কিরণের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় বাড়ির তিনটি ঘরের সব আসবাব ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়। পরে সেই আসবাব বাড়ির উঠানে জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন এবং পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত ছাঈদ মোগলের মেয়ে রোকেয়া লিপি বলেন, আমার বাবা বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। আমার বাবাকে যারা এমন নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্ত বিচার চাই।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনুর মিয়া বলেন, জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় আহতের মেয়ে রোকেয়া লিপি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এঘটনার জেরে বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।