বার্বাডোজের ফাইনালটার দুই বছর এখনো হয়নি, সূর্যকুমার যাদবের ক্যাচের স্মৃতিটা এখনো টাটকা। সেই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সমর্থকদের মনে সন্দেহের গোপন আক্ষেপ। বাউন্ডারির দড়িটা কি সরানো হয়েছিল? ২০২৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি দুই দল আজ ফের বিশ্বকাপে মঞ্চে, এবারের মঞ্চ আহমেদাবেদ। পাকিস্তান যদি ফাইনালে না ওঠে, তাহলে ফাইনালের মঞ্চও সবরমতী তীরের এই বিশাল স্টেডিয়াম। সুপার এইটে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বৈরথটাই কি ফাইনালের ড্রেস রিহার্সেল? কারণ ফর্ম আর সামর্থ্য, সবকিছু মিলিয়ে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই ফাইনালে দেখছেন এই দুই দলকেই।
ভারতকে গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে সহজে জিততে দিয়েছে পাকিস্তান, যে ম্যাচটা নিয়েই ছিল সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। এর বাইরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট, নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া... সবগুলো দলই খানিকটা করে ভুগিয়েছে। ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ এখনো তার পুরো সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। বিধ্বংসী অভিষেক শর্মা করেছেন শূন্যের হ্যাটট্রিক। এই নিয়ে কতটা চিন্তিত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব? এমন প্রশ্নে সূর্যকুমার বলেছেন, তার চিন্তা হচ্ছে অভিষেকের প্রতিপক্ষকে নিয়ে, কারণ যেদিন সে রান করবে সেদিনটায় প্রতিপক্ষের নাকের জল চোখের জল এক হয়ে যাবে, ‘অভিষেকের ফর্ম নিয়ে যারা চিন্তিত, আমি বরং তাদের নিয়েই বেশি চিন্তিত। তারা কেন এত চিন্তা করছে? আমি আসলে সেই দলগুলোর কথা ভাবছি যাদের ওর বিপক্ষে খেলতে হবে। ও এখনো সেভাবে রান পায়নি ঠিকই, কিন্তু ও যখন রান পায় তখন কী হয় সেটা আপনারা সবাই দেখেছেন। এটা একটা দলীয় খেলা, এমনটা চলতেই থাকে। এখন দলের চাওয়া হলো ছেলেটা যেন ওর নিজস্ব স্টাইলে খেলে। ও সেটাই করার চেষ্টা করছে। যদি ব্যাটে-বলে হয়ে যায় তবে তো দারুণ, আর যদি না হয়, তবে আমরা তো আছিই ওকে ব্যাকআপ দেওয়ার জন্য। গত বছর ও আমাদের টেনেছে, এবার আমরা ওর অভাব পুষিয়ে দেব।’ তবে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে স্পিনই যে হবে ভারতের তুরুপের তাস, সেটা খোলাসা করে দিয়েছেন সূর্যকুমার, ‘স্পিন বোলারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যটির সাবলীল বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো: ওরা দারুণ বল করছে। আমার মনে হয় এখন পর্যন্ত আমরা যে কটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলেছি, আমাদের স্পিনাররা প্রায় সবার বিপক্ষেই খুব ভালো করেছে। তবে আমি এখনই বলতে পারছি না যে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছি; কারণ এটি একটি নতুন ম্যাচ, একদম নতুন শুরু, আপনাকে শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কিছু ভালো পরিকল্পনা রয়েছে। আমার মনে হয় নির্দিষ্ট দিনে পরিকল্পনা এবং সেটির সঠিক বাস্তবায়ন এই দুটোরই মিল ঘটা প্রয়োজন। যদি এই দুটির সঠিক সমন্বয় ঘটে, তবে অবশ্যই আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকব।’
দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের তিনটা ম্যাচই খেলেছে আহমেদাবাদে। তবে সে জন্য আজকের ম্যাচে প্রোটিয়ারা খানিকটা এগিয়ে থাকবে বলে মনে করেন না কুইন্টন ডি কক’: হ্যাঁ, এটা কিছুটা সাহায্য তো করেই। আমরা একটা দিনের ম্যাচ এবং একটা রাতের ম্যাচ খেলেছি, তাই কন্ডিশন বা পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা হয়েছে। কিন্তু আমি বলতে চাইছি, এটা যে খুব বিশাল কোনো পার্থক্য গড়ে দেবে তা নয়; কারণ ভারতীয় দলগুলো এখানে আইপিএল খেলেছে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের পুরো ক্যারিয়ার এখানেই কাটিয়েছে। তাই দিনশেষে আমি মনে করি না যে এটি খুব বড় কোনো তফাৎ তৈরি করবে।‘
ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হওয়া মানেই গত আসরের ফাইনালের স্মৃতি ফিরে আসা। লম্বা সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকা ডি কক জানালেন, তার মনে এই নিয়ে বাড়তি কোনো রোমাঞ্চ নেই, ‘সত্যি বলতে, ওই দিনের পর আমরা সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম একদম সত্যি কথা। আমার মনে হয় না আমাদের মধ্যে কেউ আসলে ওই বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিল। সবাই বাড়ি ফিরে গিয়েছিল এবং প্রত্যেকে নিজের মতো করে বিষয়টি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। দল হিসেবে আমাদের এ নিয়ে আলাদা করে আলোচনার প্রয়োজন পড়েনি। মোদ্দাকথা এটাই। আমরা আসলে ওটা নিয়ে খুব একটা কথা বলিনি। এরপর থেকে আমি দলের সঙ্গে খুব একটা ছিলাম না, এইতো মাত্র গত কয়েক মাস হলো আমি আবার যোগ দিয়েছি। তাই আমার জানা মতে, এভাবেই সবটা ঘটেছে।’