নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালন করেছে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এনডিইউবি)। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে একুশের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা খালি পায়ে শোভাযাত্রা নিয়ে শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গাফনি, সিএসসি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় রেজিস্ট্রার ড. ব্রাদার সুবল লরেন্স রোজরিও, ডিন অধ্যাপক ড. অলোক কুমার চক্রবর্তী এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফাদার অসীম থিওটোনিয়াস গনসালভেস উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গাফনি বলেন, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের সংস্কৃতি, আত্মপরিচয় ও জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, শৈশব থেকে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষ ভাষার মাধ্যমেই নিজের চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করে। বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষায় যারা জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের আদর্শকে ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে লালন করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. অলোক কুমার চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে বাংলা ভাষার বিবর্তন ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রেরণা। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই মূলত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচিত হয়েছিল। তিনি তরুণ প্রজন্মকে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেন।

ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফাদার অসীম থিওটোনিয়াস গনসালভেস বাংলা ভাষার যথাযথ ও শুদ্ধ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভাষার শুদ্ধ চর্চা নিশ্চিত করতে পারলেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। একইসঙ্গে তিনি অন্যান্য ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার পাশাপাশি ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের স্মরণে আবেগঘন কবিতা আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত রূপ পায়।