বিএনপি নেতার বিরূদ্ধে ট্রাক্টর আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ

পঞ্চগড়ে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরূদ্ধে রাস্তা বন্ধ করে বালু ভর্তি ট্রাক্টর আটকে রেখে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম মো. মুসলিম। তিনি পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক।

এ নিয়ে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড় সদর থানায় মুসলিমসহ তিনজনের বিরূদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী বালু ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান। পরে থানা পুলিশ গিয়ে চাঁদা দাবি করে আটকে রাখা ট্রাক উদ্ধার করে।

লিখিত অভিাযেগে জানা গেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নে শালটিয়াপাড়া গ্রামে চাওয়াই নদীর বালু মহাল থেকে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করেন আনিসুর। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিনিয়ত প্রতি ট্রাক বাবদ ১০০টাকা ইউনিয়ন পরিষদে কর দিয়ে থাকেন। কিন্ত গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মুসলিম ও তার লোকজন শালটিয়াপাড়া গ্রামে মশিয়রের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় অনিসুরসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীর বালু ভর্তি ট্রাক আটক করে রাখেন। সেইসঙ্গে গাড়ি প্রতি ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এ সময় চাঁদা না দিলে গাড়ি ছাড়া হবে না এবং নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দিবে না বলে জানান মুসলিম। এ নিয়ে আনিসুর ট্রাক চালকদের সঙ্গে মুসলিমের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মারমুখি আচরণ করে এবং আনিসুরের ছেলেকে মারধর করেন মুসলিমের লোকজন।

ঘটনার পর বিষয়টি পঞ্চগড় সদর ইউপি চেয়ারম্যান আল ইমরানকে অবহিত করলে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষের কথা শুনে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার আশ্বাস দিলে ট্রাকগুলো মুসলিম ছেড়ে দেন।

এদিকে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে শালটিয়া পাড়া গ্রামে অবারও মুসলিম ও তার লোকজন বালু ব্যাবসায়ী আনিসুরের দুটি ট্রাক আটক করেন। পরে আনিসুর ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক আটকের কারণ জানতে চাইলে আবারও মুসলিম জানায় আপোষ মিমাংসা হবে না। তিনি আরও জানান, গাড়ি প্রতি ২০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে গাড়ি ছাড়া হবে না এবং নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দিবে না।

এদিকে বিষয়টি পূনরায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ই্উপি সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মিমাংসার চেস্টা করে ব্যার্থ হয়। সাথে সাথে আনিসুরকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আনিসুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি উদ্ধার করে আনিসুরকে ফিরিয়ে দেন কিন্ত বালু পরিবহন বন্ধ আছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মুসলিম জানান, আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রাস্তা ইজারা নিয়েছি কিন্ত রাস্তার টোল না দেওয়ায় আনিসুরদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে তারা আমার বিরূদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। আমার বিরূদ্ধে চাঁদাবাজি প্রমাণ করতে পারবে না আনিসুর।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, থানায় লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে ট্রাকগুলো উদ্ধার করে। পরবর্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।