সরকারকে কূটনৈতিক বার্তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বহুমাত্রিক করে আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান।

সৌদি আরব ও চীনের রাষ্ট্রদূত এবং ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনাররা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করে প্রায় একইরকম বার্তা দেন। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ইউরোপ, আমেরিকা, পশ্চিম ও পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মিশনপ্রধানদের অনেকে নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নিজ নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছেন।

সৌদি আরব : রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

তারেক রহমান সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা, বাংলাদেশে দেশটির বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সেখানে আরও দক্ষ কর্মী নিতে রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে একটি পূর্ণাঙ্গ অংশীদারত্বে উন্নীত করতে কাজ করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের নাগরিকদের ২০২৫ সালে সাড়ে ৭ লাখ কর্মভিসাসহ ১৪ লাখ ভিসা প্রদান করেছে। দেশটিতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে আরও দক্ষ ও কম দক্ষ শ্রমিকের কাজের সুযোগ রয়েছে। তারা দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও আসন্ন হজ নিয়েও আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে সৌদি রাষ্ট্রদূত অনুরূপ বার্তা দেন। দুই মন্ত্রী ১৯৭৯ সালে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নাগরিকদের জন্য সৌদি সহায়তার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। মন্ত্রীরা বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে সৌদি সমর্থন কামনা করেন। তারা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

ভারত : ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জানিয়েছি যে, পারস্পরিক স্বার্থ ও লাভের ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী মনোভাব নিয়ে সবক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’

হাইকশিমনার জানান, একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার জন্য ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি দূরদর্শী এবং ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সরকারের অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উভয়পক্ষ নিয়মিত ও গঠনমূলক যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়।

চীন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাংবাদিকদের জানান, নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে তার দেশ সমর্থন জানায়।

বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাইরের কোনো চাপ বা তৃতীয়পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না। আর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ তার দেশ মানবে না।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং ভৌগোলিক অখ-তা রক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সমর্থন থাকার কথা জানান।

তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশে একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও আলাপ হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, এ প্রকল্পে যুক্ত হতে চীন প্রস্তুত আছে। এখন বিষয়টি বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ফলপ্রসূ করতে আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে যুক্ত হতে চীনের প্রতি আহ্বান জানান।

পাকিস্তান : হাইকমিশনার ইমরান হায়দার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার ও বিস্তৃত করতে নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারে তার সরকারের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য সহযোগিতার নতুন পথ অন্বেষণে সরকারের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তারা দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জনগণের কল্যাণের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ওপরও জোর দেন।