ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সন্ত্রাসীদের হামলায় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ ও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধরা হলেন আলিম (৫২), নূরু মিয়া (৬০), সফর মিয়া (৫৫), রূপ মিয়া (৪০) ও নুরুল মিয়া (৫০)।
জানা যায়, সামিউল ট্রেডার্সের ইজারা নেওয়া বালুমহালের লোকজন ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করতে এলে গ্রামের সাধারণ জনগণ বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বালুমহালের পার্শ্ববর্তী থানার মির্জাচর গ্রামের সন্ত্রাসীরা বাধাদানকারীদের ওপর গুলি ছোড়ে। এতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাদের নবীনগর উপজেলা সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকায় পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা বলেন, রবিবার সকালে ড্রেজার দিয়ে আমাদের ফসলি জমি কেটে নিচ্ছিল অভিযুক্তরা। পরে গ্রামের জনসাধারণ বাধা দিলে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী গুলি ছোড়ে। এতে আমাদের কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পাশের উপজেলার মির্জাচর গ্রামের সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে বালু তুলে আমাদের গ্রামের ফসলি জমি বিলীন করে ফেলছে।
সাবেক ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, বালুমহালের সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। আমাদের অনেক মানুষকে গুলি করেছে, অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নানাভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের সঠিক তথ্য এখনো বলা যাবে না। সংঘবদ্ধ হয়ে বালুমহালের দুষ্কৃতরা প্রথমে স্পিডবোট থেকে গুলি ছোড়ে। আরও ৪-৫টি বোট থেকে চরে নেমে এসে গুলি চালায়। পরে তারা বাজারে ঢুকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন গ্রামবাসী সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অনুমান করা যায়। এ ছাড়া সংঘর্ষ ও হামলায় নারীসহ আরও অন্তত ৫০ জন গুলিতে আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদরসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে আহতদের চিৎকারে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।