জানুয়ারিতে সড়কে ৪১% মৃত্যু বাইক দুর্ঘটনায়

জানুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত হয়েছে। তাদের ২২৩ জনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা সড়কে নিহতের প্রায় ৪১ শতাংশ। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদের ভিত্তিতে প্রতি মাসে দুর্ঘটনা প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন। রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৬ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ হয়েছে।

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় বেশি মারা গেছে বিভিন্ন পরিবহনের চালক। তারপর যথাক্রমে পথচারী, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও পরিবহন শ্রমিক। নিহতদের ১২৭ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ৫৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮ জন শিক্ষক ও ১১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৪ জন চিকিৎসক, ২ জন পুলিশ, ২ জন সেনা ও ১ জন নৌবাহিনী সদস্য, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

২৮.৪৬ শতাংশ দুঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেল, ২৩.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান ও লরি, ১৪.৩৫ শতাংশ বাস, ১৩.৬৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫.৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯.০৪ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৫.৩০ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাসে। বেশি মারা গেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ২০৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২২৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৩২ জন। নিহতের ৪০.৮৪ শতাংশ ও আহতের ১০.৯৬ শতাংশ।

বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ১৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা সিলেট বিভাগে। ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪২.৫৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.৮৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৪.০৯ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। সারা দেশে সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪.৫২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৫৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৩৬ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার প্রতিরোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশগুলো : সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় উন্নত বিশ্বের নীতি ও কৌশল অনুসরণ করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, যানবাহনের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান; সিসি ক্যামরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইনের প্রসিকিউশন পদ্ধতি চালু করা; গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা; সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা; মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা; সড়ক পরিবহন আইন উন্নত বিশ্বের আদলে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রয়োগ করা; সারা দেশে উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা; মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন ও দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেসহীন যানবাহন স্ক্যাপ করার উদ্যোগ নেওয়া; ড্রাইভিং প্রশিক্ষণগ্রহণকারী চালকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ভ্যাট ও আয়কর অব্যাহতি দিতে হবে; মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করা; সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ লোকজনদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করা।