‘গ্রাম আদালত আইন’ কেন অসাংবিধানিক নয়

‘গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬’-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। গ্রাম আদালত অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক কেন তা বাতিল করা হবে না, রুলে জানতে চেয়েছে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও স্থানীয় সরকার সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান।

গ্রাম আদালত আইনটিকে সংবিধানবিরোধী ও অকার্যকর ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। আবেদনের যুক্তিতে তিনি তখন বলেছিলেন, গ্রাম আদালতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করানো সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের নীতির পরিপন্থী। রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিষয়ে বিচার পরিচালনা ন্যায়বিচারের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে বিচার পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু গ্রাম আদালতে প্রশিক্ষিত বিচারক নেই, আইন ও কার্যবিধির পূর্ণ প্রয়োগ নেই এবং আইনজীবীর অংশগ্রহণ সীমিত। ফলে ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যাহত হচ্ছে।

অ্যাডভোকেট ইশরাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভৌগোলিক ভিত্তিতে আলাদা বিচার ব্যবস্থা বাংলাদেশের সংবিধান কোনোভাবেই সমর্থন করে না। কিন্তু গ্রাম আদালতের নামে প্রচলিত আদালতের বাইরে এ বিচার ব্যবস্থা দিনের পর দিন চলে আসছে, যা অসাংবিধানিক। আমাদের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গ্রাম আদালত আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা প্রশ্নে রুল দিয়েছেন।’