মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম থেকে কারা যাচ্ছেন এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। কে বা কারা দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা এখনো নিশ্চিত না হলেও প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের দুয়ারে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া দুই মন্ত্রী প্রথম চট্টগ্রামে আসার পর সেখানেও নিজ নিজ অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে ফুল হাতে উপস্থিত হতে দেখা গেছে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এর আগে বিএনপি সরকারের সময় চট্টগ্রাম থেকে দলের তিনজন নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনে স্থান পেয়েছিলেন। এর মধ্যে দুটি সংসদে একজন করে এবং দুটি সংসদে দুজন করে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন। এবার অন্তত আটজন রয়েছেন মনোনয়নের দৌড়ে।

দলের স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৪টি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের ব্যাপক বিজয়ের পর সংরক্ষিত নারী আসনে স্থান পেতে আগ্রহীদের তৎপরতা বেড়েছে। দলে নিজের ও পরিবারের অবদান এবং ত্যাগের বিষয় তুলে ধরে তারা তৈরি করেছেন জীবনবৃত্তান্ত। এদের মধ্যে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেত্রীরা যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন দলের একাধিক প্রয়াত নেতার সন্তানও।

চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির সম্ভাব্য নারী সংসদ সদস্য হিসেবে সর্বাগ্রে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তিনি। পরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। গ্রেপ্তার হয়ে জেলেও যেতে হয়েছে তাকে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা বিএনপি সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, প্রয়াত বিএনপি নেতা দস্তগীর চৌধুরীর সহধর্মিণী ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত জালাল উদ্দিন আহমেদের মেয়ে সায়মা আহমেদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা বিএনপি সভাপতি মেহেরুন্নেসা নার্গিসের নাম আলোচনায় রয়েছে।

দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, ‘বাবা সারাজীবন জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি করেছেন। আমিও দীর্ঘদিন ধরে এই দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের কঠিন সময়গুলোয় কখনো পিছু হটিনি। স্বৈরাচারের সময় সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছি, জেল খেটেছি, নানা নির্যাতন-নিপীড়ন ভোগ করেছি। কিন্তু দমে যাইনি। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের এলাকা থেকে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে নিজেকে সরিয়ে এনেছি। সংরক্ষিত নারী আসনে স্থান হবে কি না সেটি দলের সিদ্ধান্তের বিষয়। দল যেটা ভালো মনে করবে সেটাই হবে।’

নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের সুদিন হোক আর দুর্দিন হোক সবসময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। হামলা-মামলা-কারাগার কোনোটাই বাদ যায়নি। রাজপথের অনেক রক্ত, অনেক ত্যাগের পর আমাদের দল সরকার গঠন করেছে। এখন দল আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করবে, সেভাবেই হবে।’

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত কাস্টমস কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদের মেয়ে সায়মা আহমেদ। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘বাবার রাজনৈতিক আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমার পথচলা। ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলাম। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। সুসময়ে এসে এখন আমার দল আমাকে মূল্যায়ন করবে এটাই প্রত্যাশা করি।’

১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে কামরুন্নাহার জাফরকে চট্টগ্রাম থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত করেছিল বিএনপি। পঞ্চম জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম থেকে বিএনপি মনোনীত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে স্থান পান রোজী কবির। ষষ্ঠ ও অষ্টম জাতীয় সংসদে রোজী কবির ও নূরী আরা সাফাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য করে বিএনপি।