প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

বাংলাদেশ সচিবালয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারি সূত্র জানায়, ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে অর্থ, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে কাঠামোবদ্ধভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে  মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করে।

সুবিধাভোগীর এনআইডি তথ্য ব্যবহার করা হলেও নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে। উপকারভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত-এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড ও ভ্যালনেরেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচি একীভূত করা হবে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকবে। দ্বৈত সুবিধা ঠেকাতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আন্তঃসংযোগ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি পরিবারে পাঁচজন সদস্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য পৃথক কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা ভাতা পাবেন।

আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। 

উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নারী খানা প্রধান ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া অন্য ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাতা বহাল থাকবে।

প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাবে যে এলাকাগুলো-

বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ।