চৌদ্দগ্রামে যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি মাদক ব্যবসায়ীর

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক আটক করতে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে সন্দেহে যুবদল নেতা মো. নুরুন্নবী মানিককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা। উভয়ে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের দক্ষিণ বেতিয়ারা প্রকাশ সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় যুবদল নেতা মানিক বাদি হয়ে রবিবার রাতে মোস্তফার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জগন্নাথ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক ও মাদক ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা পাশাপাশি বাড়ীর বাসিন্দা। মো. মোস্তফা দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কাজ করে আসছে। যে কেউ তার অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যুবদল নেতা মানিক নির্বাচনি প্রচারণায় পার্শ্ববর্তী সাতঘরিয়া রাস্তার মাথায় অবস্থানকালে মাদক ব্যবসায়ী মোস্তফা মুঠোফোনে কল করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। যুবদল নেতা মানিক কারণ জানতে চাইলে মোস্তফা হুমকি দিয়ে বলে, তুই আশরাফুল্লারে (পুলিশ) কিল্লে কইছত আবার। তুই আঁরে আর জ্বালাইচ্ছা মানা করিয়ের। মানিককা তুই আঁর মাথামুথা গরম করিছছা, কই দিয়ের। (জবাই) করিয়ালামু। আঁই তোরে মারিয়ালামু’। 

পরে যুবদল নেতা মানিক খোঁজ দিয়ে জানতে পারে, চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফুল ওই সময় দক্ষিণ বেতিয়ারা গ্রামে মাদক বিরোধী অভিযান করেন। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ী মোস্তফা সন্দেহ করে যে, যুবদল নেতা মানিক পুলিশ পাঠিয়েছে। এ সন্দেহের কারণে যুবদল নেতা মানিককে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে মাদক ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা। এছাড়াও মোস্তফা যে কোন সময় সুযোগ মত পাইলে যুবদল নেতা মানিককে প্রাণে মেরে লাশ গুম, মিথ্যা মামলা দায়ের ও ঘরবাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল বলেন, ৩০ জানুয়ারি মোস্তফার ঘরে ইয়াবা সেবনকালে আলকরা এলাকার এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. মোস্তফা বলেন, আমি আর মানিক পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা, তাকে শাসনের ছলে ছোট ভাই হিসেবে আমি কথাগুলো বলেছি, আমি তার উপর আক্রোশ করে কথাগুলো বলিনি। 

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।