সবকিছুই চলছিল দুর্বার গতিতে। ছোটপর্দার শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন মডেল-অভিনেত্রী থেকে ওটিটি ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও জ্যোতি ছড়িয়ে আসছেন দর্শকের মাঝে। গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ের পরও বেশ ঝামেলামুক্ত ও ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন মেহজাবীন চৌধুরী। কিন্তু বছরের শেষের দিক থেকেই কেমন যেন একটা অশুভ শক্তি ভর করে এই লাক্স সুন্দরীর ক্যারিয়ারে। প্রতারণার মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জারির দিনেই সন্ধ্যায় আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ সবকিছু মিলিয়ে বেশ হয়রানির কবলে পড়তে হয় তাকে। চলতি বছরের শুরুতে আবারও সেই গত বছরেরই আরেকটি ঘটনার খবর প্রকাশ হওয়ায় মনটা ভালো নেই মেহজাবীনের। তিনদিন আগে (২১ ফেব্রুয়ারি) হঠাৎ করেই কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ফেরার পথে মেহজাবীন, তার স্বামী আদনান আল রাজীব ও নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্তের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল মদ উদ্ধার করে কাস্টমস। কিন্তু ‘রহস্যজনক’ কারণে তাদের মুচলেকা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর খবর রটে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার ফোনে প্রভাব খাটিয়েই কাস্টমসের জাল থেকে মুক্ত হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। একটি আড্ডায় নাকি তিশা নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন।
এমন খবরের পরের দিন (২২ ফেব্রুয়ারি) মেহজাবীন একটি পোস্ট দিয়ে নিজেকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে সে সময় মদের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার না করায় জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে সরাসরি অভিযোগটি উড়িয়ে দেন এই লাক্স তারকা। পাশাপাশি এই ‘মানহানিকর’ প্রচারণার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মেহজাবীন। গতকাল দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এই কড়া জবাব দেন মেহজাবীন। ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাকে বিমানবন্দরে থামানো বা জিজ্ঞাসাবাদের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তিনি লেখেন, ‘উল্লিখিত কোনো ঘটনায় আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি। আমার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও আটকানো হয়নি; আমার লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগে উল্লিখিত অভিযোগের কিছু পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সে রকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি আমি হইনি। বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা আমাকে কোনোরূপ জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।’
খবরটিকে স্রেফ ‘ক্লিকবেইট’ আখ্যা দিয়ে ভিত্তিহীন এই প্রচারণার প্রমাণ দাবি করেছেন মেহজাবীন। হতাশার সঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার, আমার লাগেজ থেকে অবৈধ কিছু বের হওয়ার কোনো ছবি, ভিডিও বা কোনো ধরনের প্রমাণ কি আছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানহানি এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তার নিরিখে একটিও প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। অথচ ক্লিকবেইটের জন্য আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’
এর আগে নারীরা খুব সহজেই টার্গেট হচ্ছেন উল্লেখ করে মেহজাবীন বলেন, ‘নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছেন, এর পেছনে কে বা কারা আছেন তা আমার জানা নেই। আমি শুধু আমার কাজেই ফোকাস করতে চাই, আমি চাই আমার কাজ নিয়েই আলোচনা হোক।’
শুধু এই ঘটনাই নয়, গত বছর মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ঢাকার একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধমকি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে মামলা করেন আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। মামলার সূত্রে জানা যায়, বাদীর সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসামি মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবেন বলে নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন।
এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় বাদী বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে ‘আজ দেব, কালকে দেব’ বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করেন। এতে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা বলেন, ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না’ তোকে বাসার সামনে আবার দেখলে জানে মেরে ফেলব। এসব কথা বলে তারা বাদীকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে থানা কর্র্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেয়। মামলার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করেন মেহজাবীন ও তার ভাই।