ইরানকে রুখতে ইসরায়েলে ১২টি মার্কিন স্টিলথ ফাইটার জেট মোতায়েন

ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াতে দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অত্যাধুনিক এফ-২২ স্টিলথ ফাইটার জেট। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যুদ্ধবিমানগুলো ইসরায়েলে অবতরণ করে বলে সিনহুয়া নিউজ এজেন্সিকে নিশ্চিত করেছেন দেশটির একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

পঞ্চম প্রজন্মের এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানগুলোকে সোমবার সকালেই ব্রিটেন থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায়, যার ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের সম্ভাব্য যেকোনো হামলা বা পাল্টা আঘাত মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের সামরিক বাহিনী।

সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনাকে তারা 'ইতিবাচক' হিসেবে দেখছেন। তবে এই মোতায়েন এমন এক সময়ে ঘটল যখন হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর প্রাথমিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

এদিকে, গত বছরের ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জরুরি অবস্থার নতুন নির্দেশিকা হালনাগাদ করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কান টিভি জানায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী যোগাযোগ, সাইবার অবকাঠামো, চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতের কর্মীদের জরুরি অবস্থার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য, গত গ্রীষ্মের যুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার উত্তর গাজা উপত্যকার বেইত লাহিয়া শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গাজার বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য খাতের সহায়তায় একটি বড় লজিস্টিক অপারেশন শুরু করেছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস)। ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে পশ্চিম তীরের গুদাম থেকে গাজায় জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সোমবার ৩০ লাখ ইউনিট ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে পাঁচটি ট্রাক রওনা দিয়েছে এবং আরও চারটি ট্রাক যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সমন্বয়ে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অর্থায়নে কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় এই ত্রাণ বহরের আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি