শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে ডান হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের তিন দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে যুবদল নেতা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
পুলিশ জানায়, নড়িয়ার বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নশাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমীন রতনের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকজনের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছিল। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দুটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় প্রধান শিক্ষক নরুল আমীম রতন আহত হন।
প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন রতনের অভিযোগ, তিনি বিদ্যালয় থেকে অটোরিকশা চরে বাড়ি ফিরছিলেন। ভোজেশ্বর বাজারের তিন দোকান এলাকায় পৌঁছলে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদল নেতা মিজান শিকদার অন্তত ১০ জন লোক নিয়ে তার অটোরিকশা থামিয়ে তাকে নামিয়ে এলোপাতাড়িভাবে হাত-পায়ে পিটাতে থাকে। এ সময় তার ডান হাত ভেঙে যায়।
সদর হাসপাতালের চিকিৎসক (অর্থোপেডিক্স) ডা. মফিজুর রহমান স্বপন বলেন, আহতর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া তার ডান হাতটি ভেঙে গেছে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেছি।
এ ব্যাপারে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু শুনিনি, জানিও না। যারা হিউমার ছড়াচ্ছে তাদের প্রশ্ন করেন। আমি তার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করব।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, নড়িয়ার বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নশাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমীন রতন। তার সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা তাকে মেরেছে এ বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছি। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা জানার চেষ্টা করছি। শিক্ষক সুস্থ হলে নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারবেন। আমরা চাই যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের মাধ্যমে শাস্তি হোক।