উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সবশেষ মৌসুমের রানার্স আপ ইন্তার মিলান এবার শেষ ষোলোতেই পা রাখতে পারল না। তাদের বিদায় করে দিল নরওয়ের বোডো/গ্লিমট। আলেক্সান্ডার সোরলথের হ্যাটট্রিকে ক্লাব ব্রুজেকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পা রেখেছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। নিজেদের মাঠে অলিম্পিয়াকোসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেও আগের লেগে ২-০ গোলে জিতে আসায় নকআউট পর্বে উঠে গেছে বেয়ার লেভারকুসেন। নিউক্যাসল ৩-২ গোলে হারিয়েছে কারাবাগকে, দুই লেগ মিলিয়ে এই দুই দলের ম্যাচে গোল হয়েছে ১২টি যা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে অন্যতম গোল উৎসবের দৃষ্টান্ত।
নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড আলেক্সান্ডার সোরলথ-এর দারুণ হ্যাটট্রিকে ভর করে আতলেতিকো মাদ্রিদ শেষ ১৬-তে পৌঁছে গেছে, যেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ টটেনহ্যাম অথবা লিভারপুল। ম্যাচের ২৩ মিনিটে সোরলথ-এর প্রথম গোল। ইয়ান ওবলাকের বাড়ানো লম্বা বল ধরে ব্র্যান্ডন মেচেলকে কাটিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি। তবে ১৩ মিনিট পরেই ক্লাব ব্রুজ সমতায় ফেরে। ক্রিস্টোস জোলিসের কর্নার থেকে মেচেলের ফ্লিক করা বলে খুব কাছ থেকে হেড করে গোল করেন জোয়েল ওর্দোনেজ। বিরতির জনি কারদোসোর গোলে আতলেতিকো আবারও এগিয়ে যায়। দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যদের অবশ্য খুব বেশি সময় স্নায়ুচাপে ভুগতে হয়নি। ৭৬ মিনিটে এক পাল্টা আক্রমণ থেকে সোরলথ ঠা-া মাথায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর মাত্তেও রুগেরির বাড়ানো ক্রসে লক্ষ্যভেদ করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন সোরলথ। দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৪ ব্যবধানে জিতেই শেষ ষোলোয় পা রাখল অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ।
নিজেদের মাঠে বোডো/গ্লিমট জিতেছিল ৩-১ গোলে। ইন্তারের মাঠে এসেও নর্ডিক যোদ্ধারা ম্যাচটা জিতে নিল ২-১ ব্যবধানে। ২ লেগ মিলিয়ে ব্যবধানটা ৫-২। ৩ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের জন্য যে ফলটা নিঃসন্দেহে লজ্জার কারণ এর আগে যে দলটা কখনো গ্রুপ পর্বই পার করতে পারেনি তাদের কাছেই যে হেরেছে নেরাজ্জুরিরা। ম্যাচে প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধে, ম্যাচের ৫৮ মিনিটে বোডো/গ্লিমটের ফরোয়ার্ড ইয়েনস পিটার হেগ প্রথম গোলটি করেন, ৭২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এভইয়েন। প্রথমার্ধটা ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি ইন্তারের ফরোয়ার্ড লাইন, শেষ বেলায় ৭২ মিনিটে সান্ত¡নার গোল করেন বাস্তোনি। গ্রুপ পর্বে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল বোডো/গ্লিমট, শেষ ষোলোয় নরওয়ের চমকের সঙ্গে ফের দেখা হয়ে যাবে পেপ গার্দিওলার দলের।
বে অ্যারেনায় নাটকীয় কিছু ঘটেনি। অলিম্পিয়াকোস অনেক চেষ্টা করেও পারেনি বেয়ার লেভারকুসেনের রক্ষণ ভাঙতে। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটা শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্র’তে, ফলে প্রথম লেগে ২-০ গোলের জয়েই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত হয়ে গেছে লেভারকুসেনের।
গোল বন্যা হয়েছে নিউক্যাসল-কারাবাগ ম্যাচে। প্রথম লেগে ৬-১ এর পর দ্বিতীয় লেগে ৩-২, সব মিলিয়ে ৯-৩ ব্যবধানে শেষ ষোলোয় নিউক্যাসল। উভয় লেগ মিলিয়ে গোলসংখ্যা ১২।