জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার আগে সবশেষ কবে এতটা ভাবতে হয়েছে ভারতকে? ১৩ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল, ১০ বারই জিতেছে ভারত। তবুও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চাপে কোণঠাসা বিশ্বকাপের আয়োজকরা। যে চাপটা সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে। বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের টিকে থাকা মানেই আইসিসির লাভ, তবে সেই লাভে গুড়েবালি হতে পারে প্রোটিয়ারা আর ক্যারিবীয়রা। আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে গেলে ভারতের জন্য সেমিফাইনালে খেলাটা পরিণত হবে গাণিতিক দুঃস্বপ্নে, যে অঙ্কের সমাধান বাস্তবে নেই।
জিম্বাবুয়েকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানরেট ৫.৩৫০। ভারতের বিপক্ষে বড় জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রান রেট ৩.৮০। এই দুই দল আজ আহমেদাবাদে মুখোমুখি। একটা দল তো নিঃসন্দেহে হারবে, তাতে হেরে যাওয়া দলের রানরেট কমবে। ফলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঠিক কত রানে জিতলে বা কত দ্রুত লক্ষ্য তাড়া করে জিতলে ভারতের রানরেট বাড়বে, সেই সমীকরণ সূর্যকুমার মাঠে নামার আগেই হাতে পেয়ে যাবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সেই অঙ্কটা মেলাবার মতো থাকবে কি না?
ভারতের ব্যাটিং কোচ শীতাংশু কোটাক এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। সাংবাদিকদের ভেতর ভারতকে নিয়ে যে উদ্বিগ্নতা, তার মধ্যে ছিল না এর ছিটেফোঁটাও। বরং বারবারই বলেছেন, একটা দিন খারাপ গেছে, এতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। অভিষেক শর্মার ব্যাটিং ফর্ম, সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে আসা এসব প্রসঙ্গে শীতাংশু বলেছেন, ‘আমরা আসলে ভালো একটা ওপেনিং শুরু পাচ্ছি না। একবার ভালো শুরু পেয়ে গেলে পরিবেশটা আবার বদলে যাবে। অভিষেক যদি ইনিংসের শুরুতে কয়েকটা বল ঠিকঠাক হিট করতে পারে এবং একটা ভালো ইনিংস খেলে ফেলে, তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার মনে হয় তিলক এবং সূর্য সবাই বেশ ফর্মে আছে। আমাদের যে দারুণ মোমেন্টাম ছিল, তা স্রেফ কয়েকটা ব্যর্থতা আর শুরুর দিকের কিছু উইকেটের কারণে কিছুটা বদলে গেছে। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব সেই ছন্দটা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার এসেছিলেন ক্যারিবীয়দের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে। বলেছেন, ‘আমরা মাত্রই দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের বিপক্ষে একটি সিরিজ খেলেছি। সেখানে আমরা তিনটি ম্যাচ খেলেছি এবং রাদারফোর্ড, চেজ ও অধিনায়ক শাই হোপের মতো ক্রিকেটাররা এসএ২০-তেও খেলেছে। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যখন আপনি কোনো দলের বিপক্ষে খেলেন, সবাই সবাইকে চেনে। এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তারা একে অপরের বিপক্ষে খেলে। তাই এটি মূলত নির্দিষ্ট সেই দিনের ওপর নির্ভর করে সেদিন কারা সবচেয়ে ভালো পরিকল্পনা করছে এবং কারা সেটি মাঠে সবচেয়ে ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার কেশব মহারাজও বললেন, চেনা পরিচিত হলেও এখন সব হিসেবের বাইরে, ‘হ্যাঁ, আমরা এ বিষয়ে সংক্ষেপে কথা বলেছি (রাদারফোর্ড, হোপ আর চেজ এর সঙ্গে একই দলে খেলা) আমার মনে হয়, বিশ্বকাপে আসার আগে আমরা যে সিরিজটি খেলেছিলাম, এটি স্পষ্টতই তার একটি ধারাবাহিকতা। আমরা জানি তারা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তাই আমাদের লক্ষ্য হলো সহজ ও কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা এবং ওই ব্যাটারদের বিপক্ষে আমাদের পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দিকে মনোনিবেশ করা।’
ভারতের জন্য আশীর্বাদ হবে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়। তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট বাড়বে না, শেষ ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয় পেলেই অনেকটুকু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তার আগে অবশ্য আজ জিততে হবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তখন আর রানরেট লাগবে না, দুই জয়ে এমনিতেই সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতলে তখন ৩ দলের পয়েন্ট হয়ে যেতে পারে ৪, তখন আসবে রানরেটের হিসাব আর সেখানেই পিছিয়ে যাবে ভারত।