বিসিএল দ্বিতীয় রাউন্ডের আবু হায়দার রনির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সেন্ট্রাল জোন ৫ উইকেটে হারিয়েছে ইস্ট জোনকে। আরেক ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের সাউথ জোনকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর নর্থ। দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে ফাইনাল অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেল তাদের। শেষ ম্যাচে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে পারলেই ৩ মার্চের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দেখা যাবে শান্ত, নাহিদ, লিটনদের।
রাজশাহীতে দুদলের ১০০ ওভারের খেলা শেষ হয়েছে ৫৭ ওভারেরও আগে। মূল কারণ সাউথ জোনের ব্যাটিং ব্যর্থতা। নাহিদ ও শরিফুলের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৪ ওভারের মধ্যে প্রথম চার ব্যাটারকে হারায় সাউথ জোন। আনিসুল ইসলাম ইমন, সৌম্য সরকার, জাওয়াদ আবরার ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ফেরেন দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই। পরে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন মোহাম্মদ মিঠুন। নতুন স্পেলে ফিরে তাদের ৫০ রানের জুটি ভাঙেন নাহিদ। ২৪ রান করে আউট হন সোহান। এরপর রবিউল হকের সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়েন মিঠুন। রবিউলের ব্যাট থেকে আসে ২ চার, ২ ছক্কায় ২২ বলে ২৯ রান। শেষ পর্যন্ত ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৭৯ বলে ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন মিঠুন। ৩০.৫ ওভারে কোনো রকমে ১৪৪ রান করতে পারে সাউথ। বল হাতে ৩টি করে উইকেট নেন নাহিদ ও মেহেরব হাসান। এছাড়া শরিফুল ও মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর শিকার ২টি করে উইকেট।
জয় পেতে নর্থ জোনের লেগেছে ২৬ ওভারেরও কম। মোস্তাফিজের প্রথম ওভারে ১৭ রান তুলে দিলেও এই বাহাতি পেসারের তোপে ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারায় নর্থ। এরপর হাল ধরেন লিটন ও হৃদয়। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৮০ রানের জুটি। দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ৪৬ বলে ৩৩ রান করে আউট হন হৃদয়। ৩ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা মারেন তিনি। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন ৬৫ বলে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে । ছয় নম্বরে নেমে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২২ বলে ১৯ রান করেন আকবর আলি। ৫ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মোস্তাফিজ।
বগুড়ায় আগের ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৯ উইকেটে ২৩৭ রান করেছে ইস্ট জোন। ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন ওপেনার জাকির হাসান। সেন্ট্রাল জোনের বাঁহাতি পেসার রনি ৯ ওভারে ৪৯ রানে এক উইকেট নিয়েছেন। পরে ব্যাটিংয়ে ছয় নম্বরে নেমে ৪২ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। রান তাড়ায় ৪৫.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪০ রান করে ফেলে। ওপেনার নাঈম শেখ ৯৮ বলে ৮৩ রান করেছেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে রনি হয়েছেন ম্যাচসেরা।