পরকীয়া প্রেম: লোকজন জেনে যাওয়ায় দেবর-ভাবির আত্মহত্যা

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে দেবর মিল্টন মল্লিকের (২৬) সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়ান চাচাতো ভাবি এলিনা ইসলাম (২০)। প্রেমের বিষয়ে পরিবার ও এলাকার লোকজন জেনে যাওয়াসহ মানসিক চাপে তারা আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারনা স্থানীয়দের। এ ঘটনায় নিহত এলিনার মা গোলপী বেগম ভেদরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মিল্টন ঢাকায় তার ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার আত্মহত্যার পর প্রেমিকা চাচাতো ভাবি এলিনাও বুধবার সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মধ্য মহিষার গ্রামে তার শশুর বাড়ির একটি কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন। দেবর-ভাবির আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ, স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা ভোজেশ্বর এলাকার এলিনা ইসলামের সঙ্গে ভেদরগঞ্জ উপজেলার মধ্য মহিষার এলাকার ফয়সাল মল্লিকের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবনে তাদের একটি কন্যা শিশু জন্ম নেয়। এরইমধ্যে সংসার খরচ যোগাতে ফয়সাল মালয়েশিয়া চলে যান। বিয়ের এক বছরের মাথায় এলিনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তার চাচাতো দেবর মিল্টনের সঙ্গে। গত ৫ জানুয়ারি মিল্টন ও এলিনা পালিয়ে যান। পরে ৯ ফেব্রুয়ারি তাদের ভেদরগঞ্জের সাজনপুর এলকায় খুঁজে পায় পরিবার ও এলাকার লোকজন। এ বিষয়ে দরবারে সালিশও হয়। পরবর্তীতে মিল্টন ঢাকাতে চলে যান। ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন।

নিহত এলিনা ইসলামের পরিবার জানায়, মিল্টনের সঙ্গে এলিনার পরকীয়া চলছিল। এ কারণেই তাদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।

নিহত মিল্টনের বন্ধু মিঠুসহ স্থানীয়রা বলেন, মিল্টন লিবিয়া থেকে ফিরে ঢাকায় মিষ্টির দোকানে কাজ করত। আমরা শুনলাম গতকাল মিল্টন আত্মহত্যা করেছে। আজ আবার শুনতে পেলাম তার চাচাতো ভাবিও আত্মহত্যা করেছে। প্রেমের সম্পর্কের কারণেই এমন ঘটনা। এই ধরনের ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, দেবর ও চাচাতো ভাবির সঙ্গে পরকীয়া প্রেম ছিল। দেবর মিল্টন ঢাকাতে আত্মহত্যা করেন। একদিন পর প্রেমিকা ভাবি এলিনাও আত্মহত্যা করেন। নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর মিল্টনের মরদেহ এখনও ঢাকাতে। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।