স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালালো স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির স্বজনরা

নেত্রকোনার মদনের মেয়ে রিনা আক্তার (১৯) ও কেন্দুয়ার ছেলে পিয়াল মিয়ার (২৪) প্রেম করে বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। 

এমনকি বাড়ির গবাদিপশু ও আসবাবপত্র নিয়ে ঘরবাড়িতে তালা দিয়ে উধাও হয়ে গেছে অভিযুক্তের পরিবার। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ ফেলে পালানোর এই ঘটনাটি ঘটে।

নিহত রিনা আক্তার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশরি গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত পিয়াল মিয়া কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া কোনবাড়ি গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিনা আক্তার চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে ভালো বেতনের চাকরি করতেন। একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন পিয়াল মিয়াও। সেই সুবাদে পিয়ালের চাচাতো ভাই আলালের বাসায় তাদের পরিচয় ও প্রেম গড়ে ওঠে। পরে পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু বিয়ের ১০-১৫ দিন পর থেকেই পিয়াল রিনাকে অপছন্দ করতে শুরু করেন এবং তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়।

বুধবার ইফতারের পর রিনা বিষপান করেছেন বলে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস মিয়া রাত ১১টার দিকে রিনার বাবাকে ফোনে জানান। তারা রিনাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়েছেন বলে জানালেও স্বজনরা সেখানে গিয়ে কাউকে পাননি। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিনার মৃত্যু হলে লাশ রেখেই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা ময়মনসিংহে গিয়ে রিনার মরদেহ উদ্ধার করেন।

রিনার বাবা জাকির মিয়া অভিযোগ করে বলেন, "আমার মেয়ে বিষপান করেনি। তাকে বাড়িতেই হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজানো হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পিয়ালের পরিবারের লোকজন তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।" 

রিনার দাদা জুলহাস মিয়া বলেন, কোনো অপরাধ না করলে তারা লাশ ফেলে পালাবে কেন? তারা উল্টো নাটক সাজিয়েছে যে রিনা বিষ খেয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. মেহেদি মাকসুদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পিয়ালের বাড়িতে গিয়ে ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় পায়। বাড়ির সবাই পলাতক থাকায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। 

তিনি আরও জানান, লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দাফন শেষে স্বজনরা মামলা করবেন এবং সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে রিনার মরদেহ বাশরি গ্রামে আনা হয় এবং রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।