আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনায় কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত। পবিত্র রমজান মাসে চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক লোকজন নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের এই হামলা তার অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার আরেকটি চেষ্টা। তিনি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের দাবি, জঙ্গি নির্মূল করতে ‘অপারেশন গজব লিল-হক’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, হামলায় ২২৮ জন তালেবান সদস্য নিহত ও ৩১৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৭৪টি তালেবান কমান্ড পোস্ট ধ্বংস ও ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তাদের মুখপাত্র মুজাহিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসলামাবাদের ‘প্রত্যেক অশুভ কর্মকাণ্ডের’ জবাব দেবে কাবুল। তিনি টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) ইস্যুকে এই অঞ্চল অস্থিতিশীল করার একটি ‘অজুহাত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এটিকে পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে মন্তব্য করেন।
ভারত প্রসঙ্গে মুজাহিদ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তবে তার মানে এই নয় যে আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত রবিবার আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন জানায়, এসব হামলায় ১৩ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তানের দাবি, তারা ৮০ জনের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।
এর জবাবে বৃহস্পতিবার আফগান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে দেশটির সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। এতে পাকিস্তানের দুই সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপরই গত রাতে পাকিস্তান কাবুল ও কান্দাহার শহরে নতুন করে হামলা চালায়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এই হামলার পর সামাজিকমাধ্যমে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে পোস্ট দেন।