রক্তে চর্বি কেন বাড়ে?

লিপিড শব্দের অর্থ চর্বি। লিপিড প্রোফাইল হলো এমন পরীক্ষা, যার সাহায্যে রক্তে চার ধরনের চর্বির মাত্রা নির্ণয় করা যায়। শরীরে রক্তের ভেতর লাইপোপ্রোটিন বা লিপিড অস্বাভাবিক মাত্রায় থাকার পরিস্থিতিকে বলা হয় ডিসলাইপিডেমিয়া। এক্ষেত্রে লাইপোপ্রোটিন বা লিপিডের মাত্রা অনেক কম অথবা অনেক বেশি থাকতে পারে। তবে সচরাচর এর বেশি পরিচিত রূপ হলো হাইপারলাইপিডেমিয়া অর্থাৎ লিপিডের উচ্চমাত্রা।

ডিসলাইপিডেমিয়া কী

ডিসলাইপিডেমিয়া হলে লিপিড রক্তনালির ভেতর জমা হয়ে এথেরোসক্লেরোসিস করতে পারে অর্থাৎ রক্তনালিকে সরু বানিয়ে ফেলে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, টিআইএ, পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ, হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপ, ফ্যাটি লিভারসহ আরও অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের লিপিড বা কোলেস্টেরল থাকলেও মূলত লো ডেনসিটি লিপিড (এলডিএল), হাই ডেনসিটি লিপিড (এইচডিএল) এবং টিজি বা ট্রাইগ্লিসারাইড সর্বাধিক পরিচিত। এলডিএল এথেরোসক্লেরোসিসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গবেষণায় দেখা গেছে, এলডিএলের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ শতাংশ বাড়লে সেই ব্যক্তির করোনারি হার্ট ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।

একইভাবে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলেও একই ধরনের সমস্যার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে প্যানক্রিয়াটাইটিস নামক পেটের এক ধরনের ভয়ংকর অসুখ করতে পারে।

কারণ

বংশগত বা পারিবারিক কার্বোহাইড্রেট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট অনেক বেশি পরিমাণে খাওয়া ওবেসিটি বা শারীরিক স্থূলতা (বিএমআই ৩০-এর বেশি) ধূমপান, অনেক পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণ হরমোনজনিত অসুখ, যেমন ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরয়েডিজম লিভারের অসুখ, যেমন হেপাটাইটিস কিডনির অসুখ, যেমন ক্রনিক রেনাল ডিজিজ, নেফরোটিক সিনড্রোম অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্টেরয়েড বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ ইত্যাদি। বেশিরভাগ মানুষই জানে না যে, তারা ডিসলাইপিডেমিয়ায় ভুগছে, কারণ এর তেমন কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ খুব একটা চোখে পড়ে না। সেক্ষেত্রে ফাস্টিং লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো হলে রোগটা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। পরীক্ষা করার জন্য রক্ত দেওয়ার আগে কমপক্ষে ১৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হবে, পরীক্ষার আগের রাতে কোনো ফ্যাটজাতীয় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে, পরীক্ষার আগের দুই সপ্তাহে ব্যক্তি সচরাচর যে খাবারগুলো খেয়ে থাকেন সেগুলোই খাবেন।

চিকিৎসা

বর্তমানে স্ট্যাটিন, ফাইব্রেট, নিকোটিনিক অ্যাসিড, এজিটিমাইবসহ বেশকিছু ড্রাগ প্রচলিত রয়েছে ডিসলাইপেডেমিয়ার চিকিৎসায়। এই ওষুধগুলো যেমন এথেরোসক্লেরোসিস প্রতিরোধে সাহায্য করে ঠিক তেমনি গবেষণায় দেখা গেছে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের মতো অসুখগুলোতে হাসপাতালে ভর্তির পরিমাণও বেশ কমিয়ে ফেলতে পারে। এসব ওষুধ যেমন সঠিক ডোজে ব্যবহার করা জরুরি কারন বেশকিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

ডিসলাইপিডেমিয়া থাকলেই ভয় পাবেন না, বরং ওয়ার্নিং হিসেবে গ্রহণ করে দৈনন্দিন চলাফেরা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন করুন ও সঠিক উপায়ে ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ গ্রহণ করুন। এগুলোর সামগ্রিক প্রভাব আপনাকে স্বাস্থ্যকর ও আনন্দময় জীবনযাপনে দিতে পারে পূর্ণ সহায়তা।