প্রতিষ্ঠান হিসেবে আর্থিক মূল্য হিসাব করলে রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার সিটির প্রাক্কলিত মূল্যের যোগফল ১১.৪ বিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশের চলমান বাজেটের ৫ ভাগের ১ ভাগের সমান। খেলোয়াড়দের দাম হিসাব করলে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের মোট দাম ১.৩৬ বিলিয়ন ইউরো, ম্যানচেস্টার সিটির ১.২৯ বিলিয়ন। ফুটবল ক্লাব জগতের কোহিনূর আর দ্যা হোপ বলা যেতে পারে রিয়াল আর ম্যানসিটিকে, চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতেই দেখা হয়ে যাচ্ছে এই দুই দলের। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বাদ হয়ে যাবে বিশ্বের অন্যতম তারকাসমৃদ্ধ দুই ক্লাবের একটি।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের নিয়নে হয়ে গেল উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের ড্র। ক্রোয়েশিয়ার সাবেক মিডফিল্ডার ইভান রাকিটিচ এসেছিলেন ড্র অনুষ্ঠানে। তার হাত দিয়েই একে একে উঠেছে ক্লাবের নাম লেখা বলগুলো। উয়েফার সহকারী মহাসচিব জিওর্জিও মারচেত্তির উপস্থিতিতে বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার রাকিটিচ প্রথমেই তুলেছেন ম্যানচেস্টার সিটির নাম। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, লিগ পর্ব শেষে ক্লাবগুলোর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তাদের চারটি সিডেড পেয়ার বা বাছাইকৃত জোড়ায় বিভক্ত করা হয়। প্রতিটি বাছাইকৃত জোড়ার ক্লাবগুলোকে ‘রাউন্ড অব ১৬’-এর দুটি অবস্থানের একটিতে ড্র-এর মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। তারা নকআউট পর্বের প্লে-অফ বিজয়ীদের মুখোমুখি হয়। বাছাইকৃত (সিডেড) ক্লাবগুলো ফিরতি লেগের ম্যাচগুলো তাদের নিজেদের মাঠে খেলবে। এভাবে একে একে তুলেছেন একটা করে দলের নাম আর সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে দলগুলোর প্রতিপক্ষ।
ম্যানসিটির পর রাকিটিচ তুলেছেন স্পোর্টিং লিসবন-এর নাম, তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে তুষার ঝড় তোলা নরওয়েজিয়ান ক্লাব বোডো/গ্লিমটকে। এরপর রাকিটিচের হাতে ওঠে চেলসির নাম লেখা কার্ড, তারা খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ত জার্মেই’র বিপক্ষে। এরপর রাকিটিচের হাতে ওঠে বার্সেলোনার নাম, যে ক্লাবের হয়ে ২০১৪-১৫ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন এই মিডফিল্ডার। শেষ ষোলোয় বার্সেলোনা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে নিউক্যাসলকে। রাকিটিচের হাতে এরপর উঠেছে লিভারপুলের নাম, তাদের প্রতিপক্ষ তুরস্কের ক্লাব গ্যালাতাসারেই, যাদের ঘরের মাঠে খেলাটা রীতিমতো ভীতিকর প্রতিপক্ষের জন্য। টটেনহ্যাম পেয়েছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে আর বায়ার্ন মিউনিখ খেলবে আতালান্তার বিপক্ষে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল এর আগে এই দুই দলের মাত্র একবার দেখা হয়েছে, ১৯৬৩ সালের ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপের ফাইনালে। সেই ফাইনালে অ্যাতলেতিকো-কে ৫-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল টটেনহ্যাম, যা ছিল কোনো ব্রিটিশ কাপের প্রথম ইউরোপিয়ান ট্রফি জয়। অন্যদিকে বায়ার্ন এবং আতালান্তা এবারের আগে কখনোই একে অন্যের মুখোমুখি হয়নি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল খেলবে বুন্দেসলিগায় ছয়ে থাকা বেয়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে।
মার্চের ১০-১১ শেষ ষোলোর প্রথম লেগ, ১৭-১৮ হবে দ্বিতীয় লেগ। এপ্রিলের ৭-৮ ও ১৪-১৫ হবে কোয়ার্টার ফাইনাল, একই মাসের ২৮-২৯ হবে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ। ৫-৬ মে হবে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ। ৩০ মে ফাইনাল হবে বুদাপেস্টে।
শেষ ষোলোয় সিটি বনাম রিয়াল, এটা ফাইনালের উপযুক্ত একটা ম্যাচ; এমনটাই মনে করেন ম্যানসিটির ডিরেক্টর অব ফুটবল হুগো ভিয়ানা, ‘দুই দলের জন্যই এটি একটি বড় ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে আমরা ইতিমধ্যেই একে অপরের মুখোমুখি হয়েছি, তাই এটি দেখার মতো সত্যিই একটি চমৎকার ম্যাচ হবে। এটি অনেকটা ফাইনালের মতো, আমরা আবারও সেখানে (মাঠে) যেতে পেরে আনন্দিত। ফাইনাল নিয়ে কথা বলার সময় এখনো আসেনি, আমাদের প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোনো উচিত। এখন আমাদের সামনে একজন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ রয়েছে যাকে মোকাবিলা করতে হবে।’ লিভারপুল কিংবদন্তি ইয়ান রাশ এসেছিলেন ড্র অনুষ্ঠানে, গ্যালাতাসারেইকে শেষ ষোলোয় পেয়ে খুব একটা চিন্তিত নন এই সাবেক ফরোয়ার্ড তবে ড্র’তে একটা পাল্লা বেশি ভারী হয়ে গেছে বলেই তার অভিমত, ‘এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। গ্যালাতাসারেই জুভেন্টাসের বিপক্ষে একটি দুর্দান্ত জয় পেয়েছে। তারা দুই ম্যাচে সাতটি গোল করেছে এবং আমি ধারণা করছি এই ম্যাচেও প্রচুর গোল হতে পারে। আমার মতে আমাদের বড় সুবিধা হলো ফিরতি লেগটি (দ্বিতীয় ম্যাচ) আমাদের নিজেদের মাঠে। সেখানে এক চমৎকার পরিবেশ থাকবে, তবে সবকিছু নির্ভর করছে প্রথম ম্যাচের ফলাফলের ওপর।’ গ্যালাতাসারেই-এর মাঠে নারকীয় পরিবেশ থাকলেও ফিরতি লেগটা যেহেতু অ্যানফিল্ডে, রাশ তাই একটু নিশ্চিন্ত, ‘আমি মনে করি অ্যানফিল্ডের পরিবেশ অতুলনীয় এবং আশা করি সেই পরিবেশ আমাদের পক্ষে কাজ করবে। এখানে পিএসজি, চেলসি, ম্যান সিটি, রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ রয়েছে ড্র’র এই পাশটি সবচেয়ে কঠিন।’