২০ রোজার মধ্যে বেতন-ভাতা দাবি পোশাক শ্রমিকদের

২০ রোজার মধ্যে বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছেন পোশাক শ্রমিক নেতারা। তারা জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে বেতন-বোনাস না দিলে শ্রমিকরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।  গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এসব কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতারা।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ জানান, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও তাদের ন্যায্য অধিকার বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে।

কৃষকদের ঋণ মওকুফের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরাও ন্যায্য অধিকার পাওয়ার আশায় আছেন। ঈদের আগে বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’

শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঈদের আগে সব শ্রমিকের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ ও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। মালিকরা যদি তা না দেন, তাহলে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে শ্রমিকরাও পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক নেতা কাজী রুহুল আমিন বলেন, ‘শ্রমিকরা উৎপাদন সচল রেখে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চায়। কিন্তু, সময়মতো বেতন ও বোনাস না পেলে বাধ্য হয়েই রাজপথে নামতে হবে। শ্রমিকদের আন্দোলনের দায় তাদের নয়, দায় মালিকদের অবহেলার। বেতন পরিশোধে ব্যর্থ মালিকদের বিরুদ্ধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন শ্রমিক নেতা কে এম মিন্টু ঘোষ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সাহিদা পারভীন শিখা, শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, জালাল হাওলাদার, সাইফুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে শ্রমিকদের লাল পতাকা মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে শুরু হয়ে পল্টন এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।