দেশের ছয় সিটিতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই সিটিতে কে হচ্ছেন প্রশাসক তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। প্রশাসক পদে নিয়োগের দৌড়ে রাজশাহীর পাঁচ শীর্ষ বিএনপি নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে, এ তালিকায় রাসিকের নাম নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে রাজশাহী জুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাসিকের প্রশাসক কে হবেন। গুঞ্জন রয়েছে আগামী সপ্তাহেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ হতে পারে। প্রশাসক নিয়ে আলোচনা শুরুর পর নানান মাধ্যমে শুরু হয়েছে তৎপরতা। রাসিকের সম্ভাব্য প্রশাসক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। নেতাকর্মীরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে মতামত প্রকাশ করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় রাজশাহীর ৫ বিএনপি নেতার নাম আলোচনায় আছে। এর মধ্যে বেশি আলোচিত হচ্ছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এ ছাড়া আছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং আরেক সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নাম বেশি আলোচনা হওয়ার প্রধান কারণ তিনি এই সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলেও ২০১৩ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। জেল-জুলুম, বরখাস্ত ও মামলার কারণে অনেকটা সময় নগরের বাইরে থাকতে হয় তাকে। ২০১৮ সালে তিনি পুনরায় দলীয় প্রার্থী হলেও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ
তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করেন। ওই সময় দেশ জুড়েই আলোচিত হন বুলবুল। এ কারণে এবার দলীয়ভাবে তাকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন ভক্তরা। রাজশাহী জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শফিকুল আলম সমাপ্ত বলেন, ‘বুলবুল ভাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও ১৬ মাস দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তার অভিজ্ঞতা ও বিগত দিনের বঞ্চনা বিবেচনায় তাকে প্রশাসক হিসেবে চায় নগরবাসী।
এ নিয়ে বুলবুলের বক্তব্য, কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব দিলে অভিজ্ঞতার আলোকে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
আলোচনায় রয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদও। তিনি মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন এবং পরে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও পরিশ্রম বিবেচনায় নীতিনির্ধারণী মহল যদি তাকে যোগ্য মনে করে, দায়িত্ব পালনে তিনি প্রস্তুত আছেন।
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে জনমত। ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হয়েই তিনি আলোচনায় আসেন। তার অনুসারী নেতাকর্মীদের দাবি, নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় প্রয়োজন নতুন ও গতিশীল নেতৃত্ব। রিটন বলেন, তিনি রাজশাহী মহানগরবাসীর সেবা করতে চান। বিএনপি চেয়ারম্যান যদি যোগ্য মনে করে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেন, তবে সর্বোচ্চটা দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করবেন।
মহানগর বিএনপি সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট স্কুলে পড়ার সময় থেকে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত। তিনি রাজশাহী কলেজ ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। সুইট বলেন, দল যদি তরুণদের নিয়ে ভাবতে চায়, তাহলেও দায়িত্ব পালনে আগ্রহী আছেন। সর্বোচ্চ দিয়ে দায়িত্ব পালন করব।
আরেক সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। পরে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। রানা বলেন, প্রশাসক নিয়োগের আলোচনা চলছে। এ নিয়ে দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে, তবে প্রতিহিংসা নেই। দল যাকে দায়িত্ব দেবে, তার পক্ষে সবাই মিলে কাজ করবে।