১২০ কিলোমিটার ব্যবধানের দুই স্টেডিয়ামে দেখা গেল উলটো চিত্র। করতোয়া পাড়ের বগুড়ায় এক ইনিংসে ২০০ রান তুলতেই খাবি খেয়েছেন ব্যাটসম্যানরা, অন্যদিকে পদ্মা পাড়ের রাজশাহীতে ৩০০ রানের পুঁজিও বাঁচানো যায়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এর ওয়ানডে সংস্করণের তৃতীয় ম্যাচ ডে-তে দেখা গেল এমন বিপ্রতীপ ছবি। বগুড়ায় সাউথ জোনের ১৮০ রান তাড়া করে ১ উইকেটে জিতেছে ইস্ট জোন, রাজশাহীতে নর্থ জোনের ৩২২ রান তাড়া করে ২ উইকেটে জিতেছে সেন্ট্রাল জোন। ৩ ম্যাচে ২টি করে জিতে নর্থ জোন এবং সেন্ট্রাল জোন পৌঁছে গেছে ফাইনালে। ৩ মার্চ ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে দিবারাত্রির ফাইনাল ম্যাচ। পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতির জন্য একই সময়সূচি মেনে ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২-১৫ মিনিটে।
বগুড়ায় টস জিতে বোলিং নেন ইস্ট জোনের অধিনায়ক ইয়াসির আলি চৌধুরি রাব্বি। আগে ব্যাটিং করে সাউথ জোন ৪৩.২ ওভারে অলআউট হয় ১৮০ রানে। সর্বোচ্চ ৫০ রানের ইনিংস আসে আনিসুল ইসলামের ব্যাট থেকে। রবিউল হক করেন ৩১ রান। সৌম্য সরকার ৯, আফিফ হোসেন ২৪ আর নুরুল হাসান সোহান ০ রানে আউট হন, বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদঅ হাসান মিরাজ করেছেন ৪ রান। ৩ উইকেট করে নিয়েছেন হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান। ১৮১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা সাবধানী হলেও মিডল অর্ডারে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ইস্ট জোন। ইয়াসির ৬ ও জাকের আলি অনিক ৫ রান করে আউট হওয়ার পর ব্যক্তিগত ৪২ রানে বিদায় নেন শাহাদাত হোসেন দীপুও। ৩ উইকেটে ৯১ রান থেকে ৭ উইকেটে ১০৫ রানে পরিণত হয় সাউথ জোন। শেষ দিকে নাঈম হাসানের ২০ এবং হাসান মাহমুদের অপরাজিত ৩৫ রানের ইনিংসে ৪৭.৩ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হাতে রেখে জয়ের দেখা পায় পূর্বাঞ্চল। ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান মাহমুদ। তবে এই দুই দলের কোনোটিই জায়গা করে নিতে পারেনি ফাইনালে। কারণ রাজশাহীতে সেন্ট্রাল জোন শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ২ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে নর্থ জোনকে।
তাওহীদ হৃদয়ের সেঞ্চুরির জবাবে সেঞ্চুরি করেছেন জিশান আলম। হৃদয়ের ১১৩ বলে ১০২ রানের ইনিংস ফিকে হয়ে গেছে জিশানের ৯৩ বলে ১২৭ রানের ইনিংসের কাছে। ১৬ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় তরুণ জিশান রীতিমতো ছেলেখেলা করেছেন জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ শরীফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলামের বোলিং নিয়ে। রিশাদ হোসেন ৩ উইকেট নিলেও ছিলেন খরুচে, ১০ ওভারে দিয়েছেন ৬৫ রান।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে সেন্ট্রাল জোন বেছে নেয় বোলিং। তানজিদ হাসান তামিমের ৯২, হৃদয়ের ১০২ আর সাব্বির রহমান রোমানের ৭৩ রানে ভর করে নর্থ জোন ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে করে ৩২২ রান। লিটন দাস আউট হয়েছেন ০ রানে, আগের ম্যাচে ৫৫* রানের ইনিংস খেলে ফর্মে ফেরার আভাস দিলেও ফের ০ রানে আউট হয়ে লিটন যেন বুঝিয়ে দিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তাকে দলের বাইরে রাখাই শ্রেয়। ৫৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন আবু হায়দার রনি, ৬৪ রানে জোড়া শিকার রিপন মন্ডলের।
৩২৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা সেন্ট্রাল জোনের প্রয়োজন ছিল একটা ঝড়ো সূচনার। সেটাই এনে দিয়েছেন জিশান। অন্যপ্রান্তে নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান সাবধানী, জিশান আগ্রাসী। নাঈম আউট হয়েছেন ১৩ বলে ১০ রান করে, সাইফ ২৮ বলে ১৪। এরপর মাহফিজুল ইসলাম রবিন হাল ধরলেন ৮১ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে, ইরফান শুক্কুর করলেন ০। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ৩৯ বলে ৩৯ রানও সমীকরণটা মেলাতে পারছিল না। মিলিয়ে দিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সন্দেহভাজন হয়ে বিপিএলে খেলতে না পারা সৈকত বিসিএলে দেখিয়ে দিলেন, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে। ২৬ বলে ৫৪* রানের ইনিংস, ৪টা করে চার ও ছক্কায় ৪ বল আর ২ উইকেট হাতে রেখেই দলকে বৈতরণী পার করিয়েছেন মোসাদ্দেক। জিতে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পাওয়া সেন্ট্রাল জোন পা রাখল ৩ মার্চের ফাইনালে, যেখানে নর্থ জোনই তাদের প্রতিপক্ষ।
৯৩ বলে ১২৭ রানের ইনিংস খেলে জিশান হয়েছেন ম্যাচসেরা,১৬ চার আর ৫ ছক্কায় তার ইনিংসের ৯৪ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে।