এক নির্মম ও নৃশংস হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনে হয়রান হয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ওবায়দুল্লাহ নামে এক যুবককে হত্যার পরে তার দেহের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে টুকরো টুকরো করে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর নানা জায়গায়। গতকাল শনিবার সকালে ভুক্তভোগী ওই যুবকের কাটা দুটি হাত উদ্ধার হয়েছে গুলিস্তানের জাতীয় স্টেডিয়ামের এক ও চার নম্বর গেটের মাঝামাঝি জায়গা থেকে। একটি পা উদ্ধার হয় বিকেলে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে। এর আগে গত শুক্রবার মধ্যরাতে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে থেকে একটি খন্ডিত পা উদ্ধার করা হয়।
গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভুক্তভোগী ওই যুবকের মরদেহের মাথাসহ শরীরের বাকি অঙ্গগুলো খুঁজছিল পুলিশ। সেই সঙ্গে এই হত্যাকান্ডের উদ্দেশ্য ও হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছিল। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, রাজধানীর পৃথক তিন জায়গা থেকে মানুষের দুটি খন্ডিত হাত ও দুটি পা উদ্ধার করা হয়েছে। ফিঙ্গার প্রিন্ট থেকে ওই ব্যক্তির নাম ওবায়দুল্লাহ বলে জানা গেছে। তবে উদ্ধার করা হাত ও পা একই ব্যক্তির কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আমাদের ধারণা খন্ডিত অংশগুলো একই ব্যক্তির।
হত্যার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা শরীরের বাকি অংশগুলো খুঁজছি। সেই সঙ্গে কী কারণে ও কারা এই হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে সেটাও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এজন্য ঘটনাস্থল (হাত-পা যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে) ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আশা করি দ্রুতই জড়িত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারব।’
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওবায়দুল্লাহর বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। তিনি গণস্বাস্থ্য হোমিও নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ওষুধের বিপণন কর্মকর্তা ছিলেন। কোম্পানির কার্যালয় পুরানা পল্টনের বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায়। পুলিশ বলছে, এই কোম্পানির কর্ণধার ডাক্তার এসএম সারোয়ারের অধীনেই কর্মরত ছিলেন ওবায়দুল্লাহ। গতকাল ডাক্তার এসএম সারোয়ারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। তবে অন্য একটি নম্বর থেকে কল দিয়ে নিজেকে গণস্বাস্থ্য হোমিওর স্টাফ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, ‘গত তিন দিন (বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার) আমাদের অফিস বন্ধ ছিল। ওবায়দুল্লাহ আমাদের এখানে মার্কেটিংয়ে কাজ করতেন। কীভাবে, কী হলো, আমরা কিছুই জানি না। সকালে দেখি অফিসে ডিবিসহ আরও অনেক পুলিশ সদস্যরা এসেছেন। তাদের থেকেই জেনেছি ওবায়দুল্লাহর বিষয়ে। তার কোনো অন্তর্দ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল কি না, সেটাও আমরা জানি না। বিস্তারিত জানতে অফিসে আমাদের স্যারের সঙ্গেও কথা বলতে পারবেন।’
পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, পিবিআই ও সিআইডি ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। উদ্ধার করা শরীরের অংশগুলো ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জানান, ওবায়দুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা মেডিকেলে আছেন।