ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

‘ইরান হামলা করলে এমন শক্তি দেখাব, যা আগে কখনো দেখেনি পৃথিবী’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর ইরান কোনো ধরনের পাল্টা হামলা চালালে ‘অভূতপূর্ব শক্তি’ দিয়ে তার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রবিবার (১ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কড়া সতর্কবার্তা দেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ইরান এইমাত্র ঘোষণা করেছে যে তারা আজ অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত হানতে যাচ্ছে, যা তাদের আগের যেকোনো হামলার চেয়েও ভয়াবহ হবে। আমি বলছি- তাদের জন্য এমনটি না করাই ভালো হবে। কারণ তারা যদি আক্রমণ করে, তবে আমরা তাদের ওপর এমন শক্তি প্রয়োগ করব যা পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি।

এর আগে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে সরাসরি হামলার ঘোষণা দেয়। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী অভিযান আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে অধিকৃত ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং আমেরিকার সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনির মৃত্যুর খবরে ইরানের ভেতরে এক নজিরবিহীন চিত্র ফুটে উঠেছে। বিবিসি পার্সিয়ানের যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল করছে। ইসফাহান শহরে লোকজনকে গাড়ির হর্ন বাজিয়ে উল্লাস করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও আতশবাজি ফুটিয়ে আনন্দ উদযাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে অতীতে সরকারি দমন-পীড়নে নিহত হওয়া বিক্ষোভকারীদের পরিবারগুলোকে এই মৃত্যুতে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

তবে উল্লাসের পাশাপাশি আজ সকালে তেহরানের রাজপথে সরকারি উদ্যোগে শোক মিছিলের চিত্রও দেখা গেছে। বহু মানুষকে সর্বোচ্চ নেতার ছবি হাতে নিয়ে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ।

সূত্র: বিবিসি