ইরানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ শীর্ষ তিন সামরিক প্রধানের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ভোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালালে ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান ও শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা আলী শামখানি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, এই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও তার দফতরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হন। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হামলা থেকে অক্ষত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

হামলার পর ইরানের নেতৃত্বে শূন্যতা দেখা দেওয়ায় দেশটির সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন আইনবিদ মিলে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক পরিষদ গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।

শনিবার সকালে তেহরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে এই যৌথ হামলা চালানো হলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে বিকট শব্দ শোনা যায়। ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে টার্গেট করে চালানো এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।