ক্ষমতার পালাবদলে ইরান

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ক্ষমতার পালাবদলের পথে রয়েছে ইরান। এই অন্তর্বর্তী সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর জানিয়েছে, এই পরিষদে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (আইনবিদ)। তিন সদস্যের এই পরিষদ সাময়িকভাবে দেশের যাবতীয় নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে- সংকটময় এই সময়ে ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন। ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ আছে। সে প্রক্রিয়ায়ও প্রেসিডেন্টসহ তিন সদস্যের একটি পরিষদকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একাধিক কর্র্তৃপক্ষ বা সংস্থা কাজ করে থাকে। এর মধ্যে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিষদের সদস্যদের প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই করে গার্ডিয়ান কাউন্সিল। এই অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এখন খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। সংবিধান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথা। তবে চলমান হামলার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সদস্যদের দ্রুত একত্র করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী-বিপ্লবের পর আলি খামেনি ছিলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লা রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর দিনই আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তিনি দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। তিনি রাষ্ট্রের সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। সর্বোচ্চ নেতা সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে ইরানে সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে শিয়া মতাদর্শের আলেম হতে হবে। এর পাশাপাশি, তাকে বিশেষজ্ঞ পরিষদের মনোনয়ন নিতে হবে। খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য তিনজন হলেন গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেজি, আলি আসগার হিজাজি ও হাসান খোমেনি। এর মধ্যে গোলাম হোসেইন মোহসেনি ইজেজি বর্তমানে ইরানের প্রধান বিচারপতি। তিনি দেশটির অন্তর্বর্তী শাসন পরিষদের একজন সদস্যও। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন। আলি আসগার হিজাজি একজন ধর্মীয় নেতা। তিনি নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসান খোমেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। ২০১৫ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রার্থী হওয়ার। তবে তার মনোনয়ন বাতিল করেছিল অভিভাবক পর্ষদ। একইসঙ্গে ইরানের ভবিষ্যৎ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে পারেন এমন প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম- দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি। ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং আইআরজিসিরি প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা আলি লারিজানি ২০২৫ সাল থেকে নিরাপত্তা পরিষদের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের আইনসভা মজলিসের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লারিজানি একসময় রেভলুশনারি গার্ডের সদস্য ছিলেন। ২০০৫-২০০৭ সাল পর্যন্ত ইরানের পরমাণু আলোচকের দায়িত্বও পালন করেছেন।