বিরক্তি ও ক্ষোভ থেকে হত্যার পর ৭ টুকরো

রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। হত্যাকা-ের শিকার ব্যক্তির নাম ওবায়দুল্লাহ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের রুমমেট শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মূলত অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে নিহত ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর সাত টুকরা করে তারই রুমমেট শাহীন।

গতকাল রবিবার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, ‘নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের সেতু থেকে সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করতেন এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি, শাহীন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খ-িত দেহাবশেষ ফেলে দেয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট আনতে বলেন। শাহীন জানায়, তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই। তারা জসীম উদ্দীন রোডে বাসাভাড়া নিয়ে থাকতেন। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে আসার পর আবার তাকে নানরুটি ও কাবাব আনতে পাঠানো হয়। কাবাব ও নানরুটি নিয়ে এলেও দেখা যায়, ওবায়দুল্লাহ একাই তা খান। রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিলেন। যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিলেন, তাই বিরক্ত হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় ফোনে ধীরে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। ওই রাতে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড় ও গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে নিজে বাঁচার জন্য মরদেহটি বিভিন্ন অংশে খ- করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।’

ডিসি হারুন বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে এক পা এবং কমলাপুর স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় মাথা ফেলা হয়। মতিঝিলে কমলাপুর এলাকায় ময়লাবোঝাই কনটেইনারে ড্রামভর্তি দেহাংশ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর সেতু থেকে ফেলে দিয়েছে। সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি অংশ এরই মধ্যে পাওয়া গেছে।

শাহীন হত্যা করেছে এটি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শাহীন সাইকেলে করে খ-িত অংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সে নিজেও ঘটনার সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।’ শুধু ঝগড়া-বিবাদের কারণেই হত্যা করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘শাহীন জানিয়েছে, মাঝেমধ্যে ওবায়দুল্লাহ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত। বিষয়টি সে নিতে পারত না। অনেক সময় রাতে শাহীনের রুমে চলে যেত।’ এ ছাড়া এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যার পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে চাকরি করত এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত। তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।