শারীরিক অস্বস্তি আর বাম পায়ের অ্যাডাক্টর ইনজুরি—কোনো কিছুই দমাতে পারল না 'এল ফিদেও'-কে। রোজারিও ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের বিপক্ষে আবারও ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন আনহেল ডি মারিয়া। তার দুর্দান্ত এক ভলিতে নিউয়েলসকে ২-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা পেশাদার লিগেট প্লে-অফ জোনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল রোজারিও সেন্ট্রাল।
লড়াইটা ছিল ইনজুরির বিরুদ্ধে
ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল ডি মারিয়া শতভাগ ফিট নন। সাধারণত দলের সেট-পিস (কর্নার ও ফ্রি-কিক) নেওয়ার দায়িত্ব তার থাকলেও, এদিন ইনজুরির কারণে সেই দায়িত্ব পালন করেন ভিসেন্তে পিজারো। মাঠের ভেতরে ডি মারিয়ার নড়াচড়া ছিল সীমিত, তাকে বারবার বাম পা স্ট্রেচ করতে দেখা যাচ্ছিল। এমনকি বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে তিনি শারীরিক সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিতও দিচ্ছিলেন।
তবে চ্যাম্পিয়নরা যে কোনো অবস্থাতেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন, তার প্রমাণ মিলল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই।
৫০ মিনিটে নিউয়েলসের পেনাল্টি বক্সে জটলার মধ্যে বল পান ডি মারিয়া। কোনো ভুল না করে এক অসাধারণ ভলিতে বল জালে জড়ান তিনি। গিগান্তে ডি আরয়িতো স্টেডিয়ামের গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়ে।
গোল করার দশ মিনিট পরই ডি মারিয়াকে তুলে নেন কোচ। নিজের কাজ শেষ করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়ার সময় সমর্থকদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান এই বিশ্বজয়ী তারকা।
ম্যাচের শেষ দিকে এনজো কোপেত্তি দ্বিতীয় গোলটি করলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় রোজারিও সেন্ট্রালের।
এই হারের ফলে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের জন্য কলসো দেল পার্ক স্টেডিয়ামে রোজারিও সেন্ট্রালকে হারানোর আক্ষেপ আরও দীর্ঘ হলো। ২০০৮ সালের পর থেকে গত ১৬ বছর ধরে ঘরের মাঠে ডার্বি জিততে পারেনি নিউয়েলস।
সামাজিক মাধ্যমে উত্তাপ
ম্যাচ শেষে ডি মারিয়ার স্ত্রী জোর্জেলিনা কার্দোসোর সামাজিক মাধ্যম পোস্টগুলো নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিপক্ষ সমর্থকদের উস্কানির জবাবে তিনি ডি মারিয়ার এই লড়াকু মানসিকতাকে তুলে ধরে কড়া জবাব দিয়েছেন, যা ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।