ইরানে চলমান সংঘাতের ছোবল এখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। ইরানের সামরিক হামলায় কাতারের দুটি প্রধান গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি জায়ান্ট কাতারএনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলশ্রুতিতে সোমবার (২ মার্চ) ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী।
জানা গেছে, ইউরোপের বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচিত ‘ডাচ টিটিএফ প্রাকৃতিক গ্যাস’ চুক্তির দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ৪৬ ইউরো ছাড়িয়েছে। বিবিসি বাংলার খবর অনুযায়ী, দাম কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে-এমন আশঙ্কায় গ্যাসের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরান গত কয়েকদিনে ধাপে ধাপে পাল্টা হামলা চালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে, যার লক্ষ্যবস্তু হয় কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরব। সেই সিরিজের সর্বশেষ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতারের জ্বালানি স্থাপনা।
কাতার এনার্জি এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এবং মেসাইয়িদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে আমাদের পরিচালনাধীন স্থাপনাগুলোতে সামরিক হামলার ফলে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ এবং কাতারএনার্জি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানি। এ পরিস্থিতিতে তাদের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপের জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ইউরোপে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হবে।