২১৫০০ কোটি ডলার আয় এনভিডিয়ার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে নানা প্রশ্ন থাকলেও সব সংশয় ঝেড়ে ফেলে রেকর্ড আয় করেছে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া। এআই প্রযুক্তিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয় থাকার পরও ২১৫৯০ কোটি ডলার বার্ষিক আয়ের কথা বলেছে তারা।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে এনভিডিয়া। কোম্পানিটির অর্থবছরের শেষ তিন মাসের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং বলেছেন, ‘কম্পিউটিংয়ের চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আমাদের গ্রাহকরা এআই কম্পিউটিংয়ে বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা এআই শিল্প বিপ্লব ও তাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।’

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানিটির শেয়ারবাজার মূল্য প্রায় ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যা এআই অবকাঠামো তৈরির মূল কারিগর হয়ে উঠেছে। কোম্পানিটি ওপেনএআই ও মেটার মতো শীর্ষস্থানীয় এআই মডেল ডেভেলপারদের অত্যাধুনিক চিপ সরবরাহ করে। তাদের মতে, এনভিডিয়া অন্য যেসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছে তার ফলে এআইয়ের প্রকৃত চাহিদা আসলে কতটা শক্তিশালী সেই ধারণাটি অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। এনভিডিয়া নিজেদের পণ্যের পরিধিও বাড়াচ্ছে, যাতে যেসব ভৌত বা ফিজিক্যাল ডিভাইসে এআই যোগ থাকে সেগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগ হওয়া যায়। গত মাসে লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি মেলা ‘সিইএস’তে কোম্পানির প্রধান জেনসেন হুয়াং স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন গাড়ির জন্য নতুন এক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করেছেন। হুয়াং বলেছেন, এ ওপেন সোর্স এআই মডেলটির নাম ‘আলপামায়ো’, যা স্বয়ংক্রিয় যানবাহনে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যোগ করবে।

এনভিডিয়া বলেছে, আগামী বছরের মধ্যে নাম প্রকাশ না করা এক পার্টনার কোম্পানির সঙ্গে মিলে রোবোট্যাক্সি পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। এআই মডেল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এনভিডিয়া চিপগুলো এতদিন শীর্ষস্থানে ছিল। এখন ‘ইনফারেন্স’ পর্যায়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে এনভিডিয়া। ‘ইনফারেন্স’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত কোনো এআই মডেল বাস্তব জগতের তথ্য বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক উত্তর তৈরি করতে পারে। চতুর্থ প্রান্তিকে এনভিডিয়া ২ হাজার কোটি ডলারের বিনিময়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি কোম্পানি গ্রক’কে কিনে নিয়েছে, যা ‘ইনফারেন্স’ বা এআইয়ের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে কোম্পানিটির দক্ষতা আরও বাড়াবে।