আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে গণভোটের রায় বাতিলে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটের রায় বাতিলে আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আদালতকে যদি নিজেদের দলীয় এজেন্ডা বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার পরিণতি অত্যন্ত করুণ হবে।

গতকাল সোমবার এনসিপি চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন শুরু হয়েছিল।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হোক আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘শুধু ঢাকা থেকে নেতৃত্ব দিলে হবে না; চট্টগ্রাম থেকেও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জনগণের পাশে দাঁড়ান, ছোট-মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ান, শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ান যাতে কোনো চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসী চট্টগ্রামে টিকে থাকতে না পারে।’

চট্টগ্রামে এখনো ফ্যাসিস্টদের আস্ফালন চলছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এনসিপি ও পতিত আওয়ামী লীগ একসঙ্গে থাকতে পারে না। যে জায়গায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু হবে, সেখানে এনসিপি থাকবে, নয় তো আওয়ামী লীগ থাকবে। এনসিপির দশ কর্মী থাকলেও সেখানে আওয়ামী লীগ যেন কোনো অফিস খোলার সুযোগ না পায়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের।’ তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলছে। এই আধিপত্যবাদ শুধু ভারতীয় আধিপত্যবাদ নয়; বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো শক্তি যাবে, তার বিরুদ্ধেই আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

নাহিদ বলেন, ‘সম্প্রতি ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে, যেখানে মুসলিম বিশ্বের নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শহীদ করা হয়েছে সেই ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়েছে, তা দেখে আমাদের খুব কষ্ট লেগেছে। বাংলাদেশ কি আবার নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কবলে পড়ল? এই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো? কোনো পরাশক্তির স্বার্থ রক্ষার জন্য, নাকি নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পুরস্কার হিসেবে এসব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’