সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন জ্যামাইকান স্ট্রাইকার মিখাইল আন্তোনিও। নতুন করে ক্যারিয়ার শুরুর লড়াইয়ে ১৫ মাস পর ক্লাব ফুটবলে ফিরতে যাচ্ছেন তিনি। এবার খেলবেন কাতারের ক্লাব আল-সাইলিয়া স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় পায়ের একাধিক হাড় ভেঙে যায় আন্তোনিওর। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর জাতীয় দল জ্যামাইকার হয়ে কয়েকটি ম্যাচে বদলি খেললেও ক্লাব পর্যায়ে আর মাঠে নামা হয়নি। ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, দুর্ঘটনার পর অনেক ইংলিশ ক্লাবই তাকে সই করাতে আগ্রহ দেখায়নি।
বিবিসি,স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তোনিও বলেন, 'ম্যানেজাররা চাইতেন, কিন্তু মালিকেরা আসাকে দলে নিতে রাজি হননি। আমাকে তখন ইগো গিলে ফেলতে হয়েছে।' আগে তিনি মনে করতেন, দশ বছরের প্রিমিয়ার লিগ অভিজ্ঞতার পর ট্রায়াল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিটনেস প্রমাণ করতেই হয়েছে।
ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছেন ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডে। ৩২৩ ম্যাচ খেলে ৬৮ গোল করে ক্লাবটির প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। তবে বিদায়ের সময়টা সুখকর ছিল না। সাবেক কোচ গ্রাহাম পটারের অধীনে সুযোগ না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন আন্তোনিও।
চোট কাটিয়ে ফেরার পথে নতুন করে ধাক্কাও খেয়েছেন। ব্রেন্টফোর্ডে সই করার আগমুহূর্তে কাফ ইনজুরিতে ভোগেন। লেস্টার সিটিতেও আলোচনা এগোলেও চুক্তি হয়নি। পরে চার্লটন অ্যাথলেটিকের সঙ্গে ‘পে-অ্যাজ-ইউ-প্লে’ চুক্তির কথা চললেও শেষ পর্যন্ত কাতারেই পাড়ি জমান।
আন্তোনিও দাবি করেন, কাতারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অর্থের জন্য নয়। দুই মাসের চুক্তিতে তিনি আগে নিজের ফিটনেস ও ফর্ম ফিরে পেতে চান, 'গোল করতে চাই, ম্যাচ খেলতে চাই। সুস্থ থাকাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'
দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর আবার ঘাসের গন্ধ, ম্যাচডের উত্তেজনা আর তিন পয়েন্টের লড়াই—সবকিছুর স্বাদ পেতে মুখিয়ে আছেন আন্তোনিও। এখন দেখার, নতুন ঠিকানায় কতটা সফল হন ওয়েস্ট হ্যামের সাবেক এই তারকা।