ইরানের ড্রোন হামলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষতির পর কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি সব ধরনের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন স্থগিত করেছে। রবিবার (২ মার্চ) রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইয়িদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে হামলার পর সাম্প্রতিক সময়ে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অন্যতম বড় সরবরাহ সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই দুটি শিল্পনগরী কাতারের এলএনজি অবকাঠামোর মূল কেন্দ্র। উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক ধাক্কায় বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা বাজার থেকে ছিটকে গেছে। ২০২৫ সালে কাতার প্রায় ৮১ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি রপ্তানি করেছিল। চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বড় ক্রেতারা এবং ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতারের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।
হামলার খবর প্রকাশের পরই বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইউরোপে পাইকারি গ্যাসের দাম এক দিনে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ২০২২ সালের অস্থিরতার পর সবচেয়ে বড় লাফ। একই সঙ্গে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়েই বিপুল পরিমাণ তেল ও এলএনজি বিশ্ববাজারে যায়।
আঞ্চলিক অস্থিরতাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ইসরায়েল নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে পৃথক ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব রাস তানুরা শোধনাগারের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও নিরাপত্তা হুমকির কারণে কমে গেছে, ফলে অনেক কার্গো বন্দরে আটকে পড়েছে। ইউরোপ বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। শীত মৌসুমের আগমুহূর্তে গ্যাস মজুত তুলনামূলক কম থাকায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। এদিকে এশিয়ার ক্রেতারা সীমিত স্পট কার্গোর জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে পারে, যা গ্যাসের দাম আরও বাড়াবে এবং বিদ্যুৎ বিল ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।