পরপর দুই ম্যাচে নর্থ জোনকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (ওয়ানডে)–এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল সেন্ট্রাল জোন। মিরপুরে মঙ্গলবারের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত–র নেতৃত্বাধীন নর্থ জোনকে ৫ উইকেটে হারায় সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ–দের সেন্ট্রাল জোন।
অথচ টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল নর্থ জোন। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের হারিয়েই ফাইনালের টিকিট কেটে নেয় সেন্ট্রাল জোন। ফাইনালেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শিরোপা নিজেদের করে নেয় তারা।
আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন নর্থ জোনের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন ভেঙে যায়।
২৩৯ রান তাড়ায় সেন্ট্রালের শুরুটা ভালো হয়নি। জিসান আলম ষষ্ঠ ওভারে ১৭ বলে ১৪ রান করে ফিরে যান। তবে এরপর আর চাপ আসতে দেননি নাঈম ও সাইফ। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে ১৪১ বলে গড়েন ১৬৪ রানের জুটি। সেঞ্চুরি না পেলেও জয়ের ভিত গড়ে দেন দুজনই। নাঈম ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৭ বলে ৭৮ রান করে বোল্ড হন রিশাদ হোসেন–এর লেগ স্পিনে। পরে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৮ বলে ৮৭ রান করা সাইফকে ফেরান শরিফুল ইসলাম।
শেষ দিকে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৮ বলে ৬) ও ইরফান শুক্কুর (১৩ বলে ১৪) আউট হলেও, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত–এর সঙ্গে মাহফিজুল ইসলাম রবিন (২৪ বলে ১৮) ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন।
নর্থ জোনের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা।
এট আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নর্থ জোন। জ্বরে আক্রান্ত থাকায় খেলতে পারেননি লিটন দাস। তার জায়গায় সুযোগ পাওয়া হাবিবুর রহমান সোহান (১৭ বলে ৫) হতাশ করেন।
আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৪ চারে ২২ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান। এরপর ৫২ রানের জুটি গড়েন শান্ত ও হৃদয়। সাইফ হাসানের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ৫১ বলে ৩৫ রান করা শান্ত আউট হন।
পাঁচ নম্বরে নেমে মেহেরব হাসান (৩৮ বলে ২৮) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একই ওভারে আকবর আলি (৩ বলে ০)–কে ফিরিয়ে দেন রকিবুল হাসান। এরপর একাই দলকে টেনে নেন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে সাব্বির রহমান–এর সঙ্গে যোগ করেন ৬৩ রান। সাব্বির ৪৩ বলে করেন ২৪ রান। হৃদয় ফিফটি পূর্ণ করেন ৬৯ বলে।
সাব্বির আউট হওয়ার পর রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন হৃদয়। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে সহায়তা পাননি। রিশাদ হোসেন ১৮ বলে ১৬ রান করে আউট হন। শেষ ওভারে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে ছিলেন হৃদয়। রিপন মন্ডল–এর প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি তিনি। তৃতীয় বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে থামে হৃদয়ের ইনিংস। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৯৮ বলে ৯৬ রান।
বল হাতে রিপন মন্ডল নেন ৪১ রানে ৪ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও রকিবুল হাসান নেন দুটি করে উইকেট।